গ্র্যামি জয়ী মার্কিন র্যাপার ক্রিস ব্রাউনকে লন্ডনের একটি নৈশক্লাবে এক সংগীত প্রযোজকের মাথায় মদের বোতল দিয়ে আঘাত করেন। এই ঘটনায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) আদালত তাকে আট মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে এক বছরের জন্য দণ্ড স্থগিত থাকায় তাকে এখনই কারাগারে যেতে হচ্ছে না তাকে। ক্রিস ব্রাউন ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে লন্ডনের অভিজাত মেফেয়ার এলাকার টেপ নামের একটি ব্যক্তিগত নৈশক্লাবে এ হামলা চালান। ওই ঘটনায় নিজের দোষ স্বীকার করার পরও তার সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারত।
আদালতে দেখানো ভিডিওতে দেখা যায়, ক্রিস ব্রাউন তার সাবেক বন্ধু ও সংগীত প্রযোজক আব্রাহাম দিয়াওয়ের মাথায় বোতল দিয়ে দুবার আঘাত করেন। পরে তাকে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। হামলায় দিয়াওয়ের মাথা ও হাঁটুতে আঘাত লাগে। পরে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তবে দোষ স্বীকার, স্থায়ী কর্মসংস্থান এবং দাতব্য কাজে যুক্ত থাকার মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিচারক তাকে সরাসরি কারাদণ্ড দেওয়ার প্রয়োজন দেখেননি। অতীতে তার বিরুদ্ধে অপরাধের রেকর্ড থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি আইন ভাঙেননি বলেও উল্লেখ করেন বিচারক।
২০০৯ সালে তৎকালীন প্রেমিকা রিহানাকে মারধরের ঘটনায় অপরাধী সাব্যস্ত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন আইনি জটিলতায় জড়িয়েছেন ক্রিস। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও কিছু ঘটনায় অভিযোগ গঠন করা হয়নি, আবার কিছু অভিযোগ পরে প্রত্যাহার করা হয়। ২০১৯ সালে প্যারিসে ধর্ষণের সন্দেহে তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তবে পরে কোনো অভিযোগ ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। লন্ডনের নৈশক্লাবের ঘটনায় দোষ স্বীকার করার বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে হামলা, গুরুতর শারীরিক ক্ষতি করার চেষ্টা এবং অস্ত্র হিসেবে বোতল রাখার অভিযোগ প্রত্যাহার করে সরকারি আইনজীবীরা।
এ ঘটনায় তার বন্ধু ও কণ্ঠসংগীতের প্রশিক্ষক ওমোলোলু আকিনলুলুও দোষ স্বীকার করেন। তাকে চার মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও সেই দণ্ডও স্থগিত রাখা হয়েছে। সরকারি আইনজীবী হেইডি স্টোনক্লিফ বলেন, হামলায় ক্রিস ব্রাউনের ভূমিকা ছিল প্রধান। অন্যদিকে তার আইনজীবী স্যালি বেনেট-জেনকিনস বলেন, ঘটনার জন্য তিনি নৈশক্লাবে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তার দাবি, পুরো ঘটনাটি ২০ সেকেন্ডের বেশি স্থায়ী হয়নি।
আদালতের বাইরে ক্রিস ব্রাউনকে ঘিরে ভক্তদের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। ইতালি ও নেদারল্যান্ডস থেকেও তার ভক্তেরা তাকে দেখতে এসেছিলেন। কালো মুখোশ, গাঢ় রঙের চশমা ও কালো পোশাক পরা এই সংগীতশিল্পী ভক্তদের দিকে চুমু ছুড়ে দেন এবং একজনের জন্য স্বাক্ষরও করেন। তবে আদালতে আসার সময় একজনকে তাকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, সহিংসতা যে গ্রহণযোগ্য নয়, তা তিনি কবে বুঝবেন।
হামলার পর যুক্তরাজ্য ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন ক্রিস ব্রাউন। পরে ২০২৫ সালের মে মাসে একটি সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নিতে ম্যানচেস্টারে গেলে একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে তিনি ৫০ লাখ পাউন্ড জামিনে মুক্ত ছিলেন। সেই জামিনের শর্তে তিনি গত দুই গ্রীষ্মে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় সংগীত সফর করতে পেরেছিলেন।