প্রকৃতিতে চলছে শীতবরণের প্রস্তুতি। মানুষের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। পোশাক আশাক, খাবারদাবার এবং জীবনযাপনে ও নিতে হয় শীতের প্রস্তুতি। অনেকেই শীতের প্রস্তুতি নিতে হিমশিম খান। কীভাবে শীতের প্রস্তুতি নেবেন রইল তার নানা উপায়। লিখলেন নাহার সুলতানা
ঘরের প্রস্তুতি : শীত আসার আগেই ঘরের দরজা-জানালা এবং অপ্রয়োজনীয় ফাঁকা জায়গা বন্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে। শীতে যেহেতু ঘরের মেঝে ঠান্ডা হয়ে যায় তাই ফ্লোর ম্যাট, ভারী কার্পেট কিংবা মাদুর ব্যবহার করতে পারেন। গরমে জানালার হালকা পাতলা পর্দা সরিয়ে লাগিয়ে নিন ভারী ও কয়েক পরতের সিনথেটিক উজ্জ্বল পর্দা। এতে ঘর গরম থাকবে। তাছাড়া দিনের বেলায় যতটুকু পারবেন সূর্যের তাপ ঘরে প্রবেশের জন্য জানালা খোলা ও পর্দা সরিয়ে রাখুন। যাতে সূর্যের তাপ ঘরকে গরম রাখে। এছাড়া শীত আসার আগে দেখে নিন রুম হিটার, ওয়াটার হিটার, ইলেকট্রিক শাওয়ার, গিজার এসব যন্ত্রপাতি ঠিক আছে কি-না। ঘরে থাকা গাছগুলোর বিশেষ যত্ন নিতে হবে এ সময়। গাছগুলো যাতে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। নিয়মিত গাছে পানি ও স্প্রে করুন। অতিরিক্ত পানি দেওয়া যাবে না। শীতে অতিরিক্ত ধুলাবালি থাকে বাতাসে তাই নিয়মিত ঘর ও আসবাবপত্র মুছে রাখুন কারণ ময়লা জমে ফাঙ্গাস এবং শ্বাসকষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। ঘর পরিষ্কারের ক্ষেত্রে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করতে পারলে ভালো। সপ্তাহে একদিন সিলিং ফ্যান, জানালা-দরজার কাচ, নব পরিষ্কার করতে পারেন। শীতে নিয়মিত ভালোভাবে বিছানা ঝেড়ে পরিষ্কার করে ঘুমান এবং কয়েকদিন পর পর তোশক, বালিশ রোদে দিন। বিছানার চাদর পাল্টে নিন। বিছানায় বেড কভার ব্যবহার করুন; শীতের সময় রাতে ঘরে বেশি আলোর ব্যবস্থা রাখুন এতে ঘর গরম থাকবে। পর্দা, কুশন, বিছানার চাদর রঙিন ব্যবহার করতে পারলে ভালো, ঘর উজ্জ্বল লাগবে।
শীতে কী খাবেন : শীতে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে এনজাইমগুলো ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে এ সময় শরীর দুর্বল এবং নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। প্রচুর ভিটামিন-সি জাতীয় ফল ও সবজি খেতে হবে। এতে ঠান্ডার সমস্যা থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া যায়। এছাড়া রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট জাতীয় খাবার যেমন- কমলা, বাঁধাকপি, লেবু, আমড়া, কুমড়া, মিষ্টি আলু, বিভিন্ন ধরনের সবুজ শাক খেতে হবে। নিয়মিত ভিটামিন-সি সমৃৃদ্ধ খাবার খেলে সর্দি, ঠান্ডা, জ্বরের প্রভাব অনেকটা কম হয়। জিংক জাতীয় খাবার যেমন ডিম, দুধ, মাছ, মাংস নিয়মিত খেতে হবে। শীতে সতেজ থাকতে গ্রিন টি, আদা, লেবু, তুলসী বা পুদিনার চা খেতে পারেন। শীতে অনেকেই খুব কম পানি পান করেন এতে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। শীতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। যদি ঠান্ডা পানি পান করতে কষ্ট হয় সেক্ষেত্রে হালকা কুসুম গরম পানি পান করতে পারেন। এ-সময় ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় তাই বেশি বেশি রঙিন সবজি খাবেন। যা শরীরে ভিটামিন-এ ও মিনারেল সরবরাহ করবে। খাদ্য তালিকায় কমলা, গাজর ও মাল্টা রাখতে পারেন। শীতের জন্য হাঁটা বা ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকবেন না।
নিজের যত্ন
শীতে ত্বক ও চুল শুষ্ক ও রুক্ষ হওয়া খুবই স্বাভাবিক একটা বিষয়। শীত আসার আগেই ত্বক ও চুলের বাড়তি যত্নের প্রয়োজন। চুলে এ সময় ধুলাবালি জমে ও খুশকি হয়। শীতে নিয়মিত চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। এছাড়া শুষ্ক চুলের জন্য হট অয়েল মাসাজ খুব উপকারী। চুলের আগা ফেটে যাওয়া সমস্যা দেখা দেয় তাই চুলের আগা ও গোড়ায় ভালোভাবে তেল মাসাজ করুন। তেলের সঙ্গে ভিটামিন-ই ক্যাপসুল মিশিয়ে নিতে পারেন। শীতের সময়ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। শীতে ত্বকে আর্দ্রতা কমে তাই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। এ সময় ত্বকে গোলাপজল ও গ্লিসারিনও ব্যবহার করতে পারেন। শীতে ঠোঁট ফাটে। তাই ঠোঁটে গ্লিসারিন অথবা লিপ জেল লাগাবেন। শীতের ফেসপ্যাক হবে অন্যান্য ঋতু থেকে ভিন্ন। এ সময় পাকা পেঁপে, পাকা কলা, মধু, ময়দা, চালের গুঁড়া এ সবের তৈরিকৃত ফেসপ্যাক বেশি উপকারী।ফেসপ্যাক পরিষ্কারে হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন।
স্বাস্থ্য সতর্কতা
যাদের হাঁপানি, অ্যালার্জি আছে তাদের শীতের সময় একটু বেশিই সাবধান থাকতে হবে। ঠান্ডায় বের হলে পরিষ্কার স্কার্ফ বা টুপি ব্যবহার করুন। বাইরে বের হওয়ার আগে ইনহেলার দুই চাপ ব্যবহার করে নিতে পারেন। বেশি সময় বাইরে থাকতে হলে ইনহেলারটা সঙ্গেই রাখুন। শিশুরা অনেক সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়। মুখ দিয়ে নেওয়া শ্বাস শুষ্ক এবং শ্বাসতন্ত্র আরও সংকুচিত করে তোলে। শিশুদের বন্ধ নাক সব সময় স্যালাইন ড্রপ দিয়ে পরিষ্কার করে দিন। হাঁপানি রোগীরা শীতের শুরুতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতি বছর ফ্লু-ভ্যাকসিন নিতে পারেন। বাড়িতে কুকুর, বিড়াল বা পোষাপাখি শোবার ঘর থেকে দূরে রাখুন।