যাদের মিশ্র ত্বক তাদের সমস্যা বহুবিধ। কখনো মনে হবে ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত কখনো আবার শুষ্ক। তার ওপরে ত্বকে ছোটখাটো ব্রনের দাগ, পিগমেন্টেশন, ডার্ক প্যাচ লেগেই থাকে। খাদ্যাভ্যাস, আবহাওয়া, স্ট্রেস ও বংশগত কারণে ত্বকে এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়। এসব দাগ-ছোপ মেকআপ করে সব সময় লুকানো সম্ভব হয় না। তাই দাগ-ছোপ যাতে কম হয় সে চেষ্টাই করা উচিত সবার। মুখের কালো দাগ এবং পিগমেন্টেশন দূর করতে জীবনযাপন পদ্ধতি পরিবর্তন ও ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন।
মুখের কালো দাগ সমস্যায় মাস্ক বানাতে যা যা লাগবে
বেসন : বেসন ত্বককে ব্রাইট করে তুলতে সাহায্য করে। এছাড়া সান ট্যান রিমুভ এবং ত্বকের মরা চামড়া দূর করতে সাহায্য করে।
হলুদ গুঁড়া : হলুদে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল, অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি প্রপার্টিস রয়েছে। এটি বিশেষ করে স্কিনটোন লাইটেনিং-এ বেশ ভালো কাজ করে। কাঁচা হলুদ কিনে রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করে নেওয়া ভালো।
লেবু পাতা : লেবু পাতায় ন্যাচারাল ক্লিনজিং প্রোপার্টিস রয়েছে যা আমাদের ত্বককে রিফ্রেশ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও ব্রণ, দাগ-ছোপ, পিগমেন্টেশন দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
আলু : আলু ত্বকের ডার্ক স্পট, পিগমেন্টেশন দূর করতে খুবই কার্যকরী। এছাড়াও ত্বকের সান ট্যান রিমুভ করে, স্কিন লাইটেনিং-এ সাহায্য করে।
মাস্ক কীভাবে তৈরি করবেন
ছোট আকারের একটি আলু নিয়ে এর খোসা ছাড়িয়ে গ্রেটারের মিহি করে কুচানোর সাইড দিয়ে গ্রেট করে নিন। এবার আলুর রসটা এখান থেকে ছেঁকে আলাদা করুন। অন্যদিকে ৫টি লেবু পাতা নিয়ে ভালো করে ধুয়ে এটাকে ছোট ছোট টুকরা করে নিন। এর সঙ্গে কিছু পরিমাণ পানি মিলিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। এবার, এর জুসটুকুও ছেঁকে আলাদা করে নিন। একটি বাটিতে ২ চা চামচ বেসন, এক চিমটি হলুদ গুঁড়া, ২ চা চামচ আলুর রস এবং ২ চা চামচ লেবু পাতার রস নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে একটা স্মুদ পেস্ট তৈরি করে মুখে ব্যবহার করুন।
মুখ ভালোভাবে ক্লিন করে নিয়ে এই মাস্কটি মুখের যে সব স্থানে ডার্ক স্পট এবং হাইপারপিগমেন্টেশন রয়েছে, সেখানেই লাগাবেন। পুরো মুখে লাগানোর দরকার নেই। এরপর ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলে টোনার এবং ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন। মাস্কটি সপ্তাহে ২ দিন লাগাবেন। নিয়মিত ব্যবহারের মুখের দাগ-ছোপ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দূর হয়ে যাবে।