নবনীতা... কিছু বলবে?

কিছু সম্পর্কের গল্প শেষ হয়ে যায়, কিন্তু থেকে যায় অসংখ্য প্রশ্ন। এক সময় কাছের মানুষটির সঙ্গে দেখা হলেও সহজে জিজ্ঞেস করা যায় না, ‘ভালো আছো তো?’ ভালোবাসা, অতীতের ক্ষত, ভুল বোঝাবুঝি ও বিচ্ছেদের মনস্তাত্ত্বিক টানাপড়েন নিয়ে নির্মিত জাকারিয়া সৌখিনের নাটক ‘ভালো আছো তো?’ ঠিক এমনই এক আবেগের গল্প। জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও নাজনীন নীহার অভিনীত নাটকটি প্রকাশের দুই দিনের মধ্যেই ইউটিউবে কোটি ভিউ ছাড়িয়ে আলোচনায় এসেছে।

নাটকের গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র নবনীতা। শিশুদের একটি স্কুলে শিক্ষকতা করে সে। একদিন স্কুল থেকে বেরিয়ে রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে চা পান করতে থাকা এক যুবকের সঙ্গে তার চোখাচোখি হয়। দুজনের অভিব্যক্তিতে স্পষ্ট অস্বস্তি। নবনীতা অন্য পথে চলে যেতে চাইলে যুবকটি তার নাম ধরে ডাকতে ডাকতে পিছু নেয়। একপর্যায়ে নবনীতার গলা চেপে ধরার মতো অপ্রত্যাশিত ঘটনায় গল্পের শুরুতেই তৈরি হয় রহস্য। কে এই যুবক? নবনীতার সঙ্গে তার সম্পর্ক কী? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দর্শককে গল্পের গভীরে যেতে হয়।

অপূর্ব ও নাজনীন নীহা। এই জুটির পর্দার রসায়ন আগেও দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে। ‘মন দুয়ারি’, ‘মেঘবালিকা’ ও ‘মায়াপাখি’র পর নতুন নাটকেও তারা নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। অপূর্বর অভিনয়ে চরিত্রের আবেগ, অভিমান ও মানসিক টানাপড়েনের প্রকাশ গল্পকে এগিয়ে নেয়। অন্যদিকে নবনীতার চরিত্রে নীহার অভিব্যক্তি ও সংলাপ উপস্থাপন গল্পের আবেগকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। দুজনের অভিনয়ে সম্পর্কের জটিলতা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়।

নাটকটির বড় আকর্ষণ, গল্পের শুরুতে তৈরি হওয়া রহস্য ধীরে ধীরে প্রেম, অতীতের স্মৃতি ও বিচ্ছেদের বেদনার সঙ্গে যুক্ত হয়। এখানে সম্পর্কের টানাপড়েন শুধু সংলাপে সীমাবদ্ধ নয়; চরিত্রের আচরণ ও নীরবতাও গল্পের অংশ। নবনীতা... কিছু বলবে? শেষ দৃশ্যের ব্যতিক্রমী উপস্থাপন দর্শককে নতুন করে ভাবায়।

মিলি বাশার, সমাপ্তি মাশুক ও প্রান্তসহ অন্য শিল্পীরাও চমৎকার অভিনয় করেছেন। আহমেদ রিজভীর কথায় সাজিদ সরকারের সুর-সংগীতে ‘যাকে ভালোবেসেছি’ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন মাহতিম সাকিব ও রুমি রুসা। আবহ ও দৃশ্যায়নেও রয়েছে আবেগের অনুষঙ্গ।

সব মিলিয়ে ‘ভালো আছো তো?’ কেবল প্রেমের নাটক নয়; এটি সম্পর্ক ভাঙার পরও থেকে যাওয়া অনুভূতি ও না-বলা কথার গল্প। অপূর্ব-নীহার অভিনয়, রহস্যময় সূচনা ও শেষের চমক নাটকটিকে দর্শকের আলোচনায় রেখেছে।