উইকেটেই লুকিয়ে সব রহস্য, আজ শুরু মিরপুর টেস্ট

সিরিজ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলন শেষে গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে ৫ মিনিটের মধ্যে আবারও মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের দিকে বের হয়ে আসেন তিনি। এবার তার সঙ্গে ছিলেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স ও প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।

একটু পর তাদের সঙ্গে যোগ দেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হেড অব টার্ফ ম্যানেজমেন্ট টনি হেমিং। তিনি মিরপুরের উইকেট বানানোর দায়িত্বে আছেন। পরে আরও দুই নির্বাচক নাঈম ইসলাম ও নাদিফ চৌধুরীও সেখানে আসেন। সবাই মিলে দীর্ঘক্ষণ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের উইকেট। এই উইকেটেই যে লুকিয়ে আছে লড়াইয়ের সব রহস্য।

উইকেট দেখার পর হেমিং বাদে বাকিদের একটি বৈঠকও করতে দেখা যায়। কার্তিকের এই খরতাপে প্রায় ১৫ মিনিটের বৈঠক দেখে আন্দাজ করা যায়, সেখানে একাদশ নিয়ে নিজেদের আলোচনা সেরে নিয়েছেন তারা। ৩ পেসার নাকি ৩ স্পিনার? সেটাই এখন রহস্য। সে রহস্য ভাঙতে চাইলেন না খোদ বাংলাদেশ অধিনায়ক। এই বৈঠকের আগে সংবাদ সম্মেলনে উইকেট নিয়ে প্রশ্ন এড়াতে চাইলেন তিনি। হাসতে হাসতে সেটির একটা কারণও বলেছিলেন তখন, প্রতিপক্ষ যদি তার কথাগুলো শুনে ফেলে!

এ নিয়ে শান্ত বলেন, ‘আমাদের এখন পেস বোলিং এবং স্পিন বোলিং, দুই দিকেই আমরা ভালো অবস্থানে আছি। এটা নিয়ে এখানে বলতে চাই না। আমি বিশ্বাস করি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই সংবাদ সম্মেলন দেখতে পারে। আমার মনে হয়, আমাদের জন্য যে কন্ডিশন উপযুক্ত হবে, আমরা সেই অনুযায়ী এগোব।’

কিন্তু ক্রিকেট নিয়ে যাদের চর্চা, উইকেট দেখলেই তারা বুঝতে পারেন আচরণটা কেমন হবে। ধাঁধাটা মূলত এখানেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলের বিপক্ষে স্পিন-সহায়ক উইকেটেই খেলার কথা। গতকাল অবশ্য সফরকারী দলের অনুশীলন ছিল না। সংবাদ সম্মেলন ও ট্রফি উন্মোচন করতে মিরপুরে একাই এলেন দলটির অধিনায়ক রস্টন চেজ। ক্যারিবীয় দলপতি যখন মাঠে ছিলেন, তখনো উইকেটের ওপর ঘাস ছিল। দুপুরের পর সেটা আরও ছেঁটে ফেলেন মাঠকর্মীরা। আজ সকালে ম্যাচের আগে আরেক দফা ছাঁটাই চলবে। তাতে পাঁচ দিনের ম্যাচে পেসাররা যে খুব বেশি সুবিধা পাবেন না, সে দাবি বেশ জোর দিয়েই করা যায়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়কেরও একই ভাবনা, ‘গতকাল (সোমবার) আমি উইকেট দেখেছি। তবে আমার মনে হয় না আগামীকালও (আজ) উইকেটটা এমন থাকবে। সম্ভবত আরও কিছুটা ঘাস ছেঁটে ফেলা হবে কিংবা উইকেট তৈরির কাজ আরও কিছুটা করা হবে।’

ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ। ঘরের মাঠে দুই টেস্ট থেকেই পূর্ণ পয়েন্ট পেতে চাইবে শান্তরা। সে ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের দুর্বলতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি নিজেদের শক্তির সঙ্গে মানানসই উইকেট পাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে স্পিনের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের নড়বড়ে অবস্থান বাংলাদেশের পরিকল্পনায় প্রভাব রাখার কথা।

তবে উইকেট যেমনই হোক, সেখানে দুই দলকেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে মনে করেন রস্টন। উইকেটের চরিত্র নিয়ে আগাম ধারণা না করে প্রতিটি বলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই সাফল্যের পথ তৈরি করবে বলে মনে হয়েছে তার, ‘আমরা ব্যাটারদের শুধু বলি, বল দেখে খেলতে। আমরা চাই না, কেউ আগে থেকেই কোনো নির্দিষ্ট ধারণা নিয়ে মাঠে নামুক। যেমন, উইকেটে স্পিন হবে, সিম মুভমেন্ট হবে অথবা অন্য কিছু হবে। এমন ধারণা নিয়ে খেলতে নামা উচিত নয়। আমরা চাই, খেলোয়াড়রা খোলা মন নিয়ে মাঠে আসুক।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘ম্যাচের যেকোনো মুহূর্তে সফল হওয়ার জন্য যা করা প্রয়োজন, তারা যেন সেটাই করতে পারে। উইকেট কেমন আচরণ করবে, তা নিয়ে আগেভাগে অতিরিক্ত চিন্তা করতে চাই না। আমরা প্রতিটি বল তার যোগ্যতা অনুযায়ী খেলতে চাই।’

টেস্টে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে অবশ্য এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২২ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ৫টি, ক্যারিবীয়দের ১৫টি। বাকি দুটি ম্যাচ হয়েছে ড্র। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছিল বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠে ব্যবধান কমানোর সুযোগ শান্তদের সামনে।

সব মিলিয়ে মিরপুরের উইকেটের চরিত্র নির্ধারণ করতে পারে প্রথম টেস্টের লড়াইয়ের গতিপথ। স্পিনে সফরকারীদের দুর্বলতা কাজে লাগাতে চাইবে বাংলাদেশ, অন্যদিকে উইকেটের আচরণ বুঝে পাল্টা পরিকল্পনা সাজাতে প্রস্তুত ওয়েস্ট ইন্ডিজও। ঘাসের আড়ালে লুকিয়ে থাকা স্পিনের সম্ভাবনা শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তব হয়ে ওঠে, সেটিই এখন দেখার।