রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর রেলস্টেশন এলাকায় মাদক সেবন ও আড্ডার জন্য তৈরি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই অভিযান চলে। সিটি করপোরেশনের হুইল লোডার দিয়ে ছোট ছোট ঘর আকৃতির অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নিয়ে সহযোগিতা করেছেন।
গে-ারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, রেললাইনের পাশে মাদকের আড্ডাখানা ও অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে এলাকাটি পরিষ্কার করা হয়েছে, যাতে সেখানে যানবাহন চলাচল করতে পারে। উচ্ছেদের পর এলাকাটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানের সময় কোনো মাদক কারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। টানা কয়েক দিন অভিযানের ফলে সেখানে মাদকসেবী ও কারবারিদের আনাগোনা কমে এসেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুরের দিকে সিটি করপোরেশনের হুইল লোডার দিয়ে একের পর এক গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ছোট ছোট ঘরের মতো তৈরি অবৈধ স্থাপনা। যন্ত্রের আঘাতে ভেঙে পড়ছে ঘরগুলোর কাঠামো। ছড়িয়ে পড়ছে ইট, কাঠ ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী। ভাঙা অংশ যাতে পাশের রেললাইনে গিয়ে না পড়ে, সে জন্য সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজন সেগুলো কুড়িয়ে সরিয়ে নিচ্ছেন। পরে এসব সামগ্রী সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়িতে তুলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। উচ্ছেদ অভিযান দেখতে এ সময় সেখানে জড়ো হন এলাকার বহু মানুষ। সকাল থেকে চলা উচ্ছেদ কার্যক্রমের একপর্যায়ে বদলে যেতে থাকে রেললাইনের পাশের চিত্র। যেখানে আগে ছোট ছোট ঘর ও অস্থায়ী স্থাপনা ছিল, সেখান থেকে সেগুলোর চিহ্ন সরিয়ে নেওয়া হয়। বিকেলের দিকে জায়গাটি অনেকটাই ফাঁকা হয়ে আসে। রেললাইনের পাশের ওই স্থানের চেহারায় আসে দৃশ্যমান পরিবর্তন।
এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াহিয়া খান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। আজ অবশেষে সেই কাজটি হলো। এখানে মাদকের যে কত বড় আখড়া গড়ে উঠেছিল, তাদের শক্তিশালী সিন্ডিকেটও ছিল। ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পেত না। সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতাম, কখন নিজের সন্তানরাও মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। আজ অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করায় অনেকটাই স্বস্তি লাগছে।’
এ সময় ইয়াহিয়া খানের মতো অনেক বাসিন্দা উচ্ছেদ অভিযানের প্রশংসা করেন এবং ওই স্থানে সারাক্ষণ অন্তত ২/৪ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করার দাবি জানান। তবে সেখানে প্রতিনিয়ত পুলিশের অভিযান, টহল ও মোতায়েন থাকে বলে জানিয়েছেন ওসি।
গত ১৯ অক্টোবর ঘুণ্টিঘর রেলস্টেশন, মুন্সিরটেকসহ আশপাশের মাদকপ্রবণ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১০। ওই অভিযানে অন্তত ১৪ জনকে আটক করা হয়। ডিএনসির ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণের উপ-পরিচালক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল অভিযানে অংশ নেয়। এর আগে
ঘুণ্টিঘর রেলস্টেশন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আলোচনায় আসেন ইশরাক হোসেন। পরে ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনার মুখে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। এরপর থেকে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।