মিরপুর টেস্টের শুরুর ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে চালকের আসনে বসেছে বাংলাদেশ। উইন্ডিজ পেসারদের নিয়ন্ত্রিত স্পেল আর তামিম-মুমিনুলের দ্রুত বিদায়ের দলকে শক্ত ভিত এনে দিচ্ছেন সাদমান ইসলাম। এক প্রান্ত আঁকড়ে ধরে দারুণ এক দায়িত্বশীল ইনিংসের সুবাদে এগোচ্ছেন সেঞ্চুরির পথেই। অপরাজিত আছেন ৭৯ রানে।
লাঞ্চ বিরতির পরপরই অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর শান্তর বিদায়ের পর তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে উইকেটে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। দ্বিতীয় সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৭৭ রান।
ম্যাচের শুরুটা একেবারেই সহজ ছিল না স্বাগতিকদের জন্য। টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া বাংলাদেশ ইনিংসের শুরুতেই হারায় তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট (৭)। উইন্ডিজ পেসার জেইডেন সিলসের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে স্কোরবোর্ডে যোগ হয়েছিল মোটে ৯ রান।
এরপর প্রাথমিক চাপ সামলে মুমিনুল হককে সঙ্গে নিয়ে দলের রান বাড়িয়ে নিতে থাকেন সাদমান। এই জুটিতেই মুমিনুল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। তবে জোমেল ওয়ারিকানের ঘূর্ণিতে ২৮ রান করে মুমিনুল সাজঘরে ফিরলে ভাঙে ৫৯ রানের জুটি। সেখান থেকে প্রথম সেশনের বাকি অংশে আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি শান্ত-সাদমানরা।
তবে দ্বিতীয় সেশনের এসে নিজের উইকেট বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি শান্ত। রস্টন চেইজের সফল রিভিউয়ের মুখে এলবিডব্লিউ হয়ে ১৯ রান করে ফেরেন তিনি। তখন ১১২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপাকেই পড়েছিল দল।
তবে সেই বিপর্যয়কে জয় করে দলের ইনিংসের অ্যাংকরম্যান হয়ে ওঠেন সাদমান। ৯৫ বলে সিলসের ওভারে সিঙ্গেল নিয়ে নিজের চতুর্থ ফিফটি ছোঁয়া এই ওপেনার উইকেটে পুরোপুরি থিতু হয়ে এগোচ্ছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরির দিকে।
টেস্টে সাদমানের ব্যাটে সবশেষ সেঞ্চুরিটি এসেছিল দেড় বছরেরও বেশি সময় আগে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে চট্টগ্রাম টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ১২০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে তার বাকি একটি সেঞ্চুরিটিও এসেছিল সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই।
একই প্রতিজ্ঞায় এবার উইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ও নিজের তৃতীয় শতকের পথে অত্যন্ত সতর্ক ও দায়িত্বশীল ব্যাটিং চালিয়ে যাচ্ছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। রানের চাকা কিছুটা ধীরগতির হলেও উইকেটে শিকড় গেড়ে দলের ইনিংসের বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন তিনি।
হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ৬৭ রানে জুটি গড়ে ফেলেছেন ইতিমধ্যেই। এই মুহূর্তে সাদমান ১৬৭ বলে ৭৯ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন, আর হৃদয় ব্যাট করছেন ৩৬ রানে।