বিশ্বব্যাপী বিমান যাত্রীদের নিয়ে সমীক্ষা প্রকাশ আইএটির

বিশ্বব্যাপী বিমান যাত্রীদের মতামত ও আচরণের ওপর ভিত্তি করে সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটি)। চীনের ম্যাকাওতে প্রকাশিত এই ফলাফরে ২০০টিরও বেশি দেশের ১০ হাজারেরও বেশি যাত্রীর তিনটি প্রধান পরিবর্তনের কথা উঠে এসেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা আইএটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়, যাত্রীরা বিমানবন্দরে বারবার নথিপত্র বা পাসপোর্ট পরীক্ষা করার ঝামেলা এড়াতে বায়োমেট্রিক আইডেন্টিফিকেশন (আঙুলের ছাপ, ফেসিয়াল রিকগনিশন ইত্যাদি) ব্যবহারের প্রতি তীব্র আগ্রহ দেখা গেছে এবং বিমান চেক-ইন এবং বুকিংয়ের সময় আরও দ্রুত সেবা পাওয়ার জন্য যাত্রীরা এখন ডিজিটাল পাসপোর্ট ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন।

আইএটিএ-এর মতে, এই ডিজিটাল আইডেন্টিটি বিমান ভ্রমণকে আরও সুবিধাজনক, দক্ষ এবং নিরাপদ করে তুলছে।

তাছাড়া বিমান ভ্রমণের পরিকল্পনা সাজাতে যাত্রীরা এখন ব্যাপকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক যাত্রীই তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় কোনো না কোনোভাবে এআই-এর সাহায্য নিয়েছেন। এদের মধ্যে ২১ শতাংশ যাত্রী নির্দিষ্ট গন্তব্যের ফ্লাইট খোঁজার জন্য এআই ব্যবহার করেছেন। ১৯ শতাংশ যাত্রী সবচেয়ে সস্তা ফ্লাইট খুঁজে পেতে এবং ১৭ শতাংশ যাত্রী নতুন কোনো গন্তব্যে ভ্রমণের অনুপ্রেরণা বা ধারণা পেতে এআই-এর সাহায্য নিয়েছেন।

তবে প্রযুক্তির অগ্রগতি সত্ত্বেও যাত্রীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন দেশের ভিসা ও ইমিগ্রেশন বা প্রবেশ সংক্রান্ত জটিল নিয়মকানুন এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা। ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার কারণে যারা ভ্রমণ থেকে বিরত থেকেছেন, তাদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ যাত্রী মনে করেন এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল। এ ছাড়া ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে যারা নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাননি, তাদের মধ্যে ৭২ শতাংশ যাত্রী নিরাপত্তার অভাবকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে বিজ্ঞাপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।