কালীগঞ্জে কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে প্রশাসনের মতবিনিময়

গাজীপুরের কালীগঞ্জে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। সভায় বিদ্যালয়গুলোর পাঠদানের অনুমতি ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় কালীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম কামরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শারমিন শাহী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন খলাপাড়া আদর্শ একাডেমির প্রধান শিক্ষক মামুন আহমেদ। এরপর গীতা পাঠ করেন সুজাপুর বীণাপাণি বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক তারিন চন্দ্র মণ্ডল এবং বাইবেল পাঠ করেন সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিস্টার শিউলি পিউরিফিকেশন। সভায় উপজেলার প্রায় শতাধিক কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অংশ নেন।

স্বাগত বক্তব্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বিদ্যালয়গুলোর মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা রক্ষা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রধান শিক্ষকদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

সভায় কালীগঞ্জ উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম খানসহ মোহাম্মদ আলী খোকন মাস্টার, জালাল উদ্দিন মাস্টার, হাবিবুর রহমান হাবিব, অ্যাডভোকেট সাদেক মাস্টার, প্রিন্সিপাল নাজমুল ইসলাম ও মুহাম্মদ নোমান বক্তব্য দেন। 

তারা জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার কোনো কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয় এখনো পাঠদানের অনুমতি বা নিবন্ধন পায়নি। এ পরিস্থিতি নিরসনে সহজ শর্তে পাঠদানের অনুমতি ও নিবন্ধন দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও এ টি এম কামরুল ইসলাম বিষয়টি দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়গুলো আইনি বৈধতা ও সরকারি নিয়মনীতি মেনে পরিচালিত হলে শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে। পাঠদানের অনুমতি ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক করার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষের মান বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরামর্শ দেন ইউএনও। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের সুবিধার্থে একটি মিলনায়তন নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং তাদের বিদ্যালয়মুখী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইউএনও বলেন, উপজেলার দরিদ্র ও মেধাবী ১০০ শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল দেওয়া হয়েছে। নৈতিক শিক্ষা, নিয়মিত উপস্থিতি ও সৃজনশীল পাঠদানের মাধ্যমে আদর্শ জাতি গঠনে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন। প্রশাসন ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগে শিক্ষার মানোন্নয়নের প্রত্যয় নিয়ে সভা শেষ হয়।