বাস্তুচ্যুতি, পরিবেশসংকট, মানবাধিকার ও একাত্তরের জীবন্ত স্মৃতির নানা গল্প নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আগামীকাল ২৯ অক্টোবর শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘১৩তম লিবারেশন ডকফেস্ট বাংলাদেশ’। এবারের উৎসবের প্রতিপাদ্য ‘প্রেজেন্স ইন অ্যাবসেন্স’।
আগামীকাল বিকেল ৫টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে উৎসবের উদ্বোধন করবেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও নাট্যজন ম. হামিদ। বিশ্বজুড়ে মুক্তিকামী মানুষের সংগ্রাম ও মানবিক মর্যাদার লড়াই পর্দায় তুলে ধরতে ২০০৬ সাল থেকে এ উৎসবের আয়োজন করে আসছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
আয়োজকেরা জানান, উৎসবে জমা পড়া ১৮৮টি চলচ্চিত্র থেকে বাছাই করে দুটি বিভাগে মোট ১৮টি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হবে দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণ নির্মাতা নাম আরুমের পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র ‘কে-ফ্যামিলি অ্যাফেয়ার্স’। ব্যক্তিগত চিঠি ও রাজপথের উত্তাল আন্দোলনের আবহে নির্মিত এ চলচ্চিত্রে রূঢ় বাস্তবতার মুখে তরুণ বয়সের আদর্শবাদ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে পৌঁছায়, তা তুলে ধরা হয়েছে।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন ৩০ অক্টোবর বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে ‘কানেক্টিং উইথ দ্য মেমোরি অব ১৯৭১ ইন দ্য ক্লাসরুম থ্রু ডকুমেন্টারি ফিল্ম’ শীর্ষক সেমিনার। সন্ধ্যা ৬টায় সন্দীপ কুমার মিস্ত্রীর ‘বাসন্তী: আ স্ট্রাগল ফর স্প্রিং’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পর আলোচনায় অংশ নেবেন শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা।
উৎসবের শেষ দিন ৩১ অক্টোবর বিকেলে বিশেষ প্রদর্শনী বিভাগে দেখানো হবে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নারীবাদী কল্পকাহিনি ‘সুলতানার স্বপ্ন’-এর আঙ্গিক, আকাঙ্ক্ষা ও বিষয়বস্তুর সঙ্গে বর্তমান সময়ের সংযোগ ঘটিয়ে ব্যক্তিগত আঙ্গিকে নির্মিত নয়টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
এবার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগে দুটি চলচ্চিত্রকে এক লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে। পাশাপাশি তরুণ নির্মাতাদের চলচ্চিত্র মূল্যায়নে আট সদস্যের ‘ইয়ুথ জুরি’ দুটি চলচ্চিত্রকে বিশেষ সনদ দেবে।
আগামী ৩১ অক্টোবর পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ আয়োজন। উৎসবের সব প্রদর্শনী ও আলোচনা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।