বিএনপির বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ জামায়াতের

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণ এবং অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার প্রস্তুতির অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ভোটার স্লিপ বিতরণের পাশাপাশি ভোটারদের ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁরা তথ্য পেয়েছেন। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বসবাসের এলাকায় অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার প্রস্তুতি চলছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়েছেন তাঁরা। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা নির্বাচনী আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন হবে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতের এই প্রার্থীর অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত থেকেই ভোটার স্লিপ বিতরণের পাশাপাশি ভোটারদের টাকা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ধানের শীষে ভোট দেওয়ার শর্তে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার প্রলোভন দেখিয়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন সরকারি সুবিধার কার্ড দেওয়ার কথা বলে ভোটারদের নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ধানের শীষে ভোট দিলে এসব সুবিধা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনী কার্যক্রমে ব্যবহারের অভিযোগও করেন দেলাওয়ার হোসেন। তাঁর দাবি, গত ৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে সরকারদলীয় প্রার্থী বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিনের সমর্থকদের একটি অংশ পেশিশক্তি ও দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রতীক বরাদ্দের আগেই বিএনপির প্রার্থীর ব্যানার ও ফেস্টুনে ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন স্থান ছেয়ে ফেলা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নারী কর্মীর পরিবারকে হুমকি এবং আরেক কর্মীর বাসায় গিয়ে সশস্ত্র ব্যক্তিদের প্রচারণা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন জামায়াতের প্রার্থী। তাঁর দাবি, এসব ঘটনায় নির্বাচনী এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টায় প্রচারণার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর স্থানীয় এনজিও ইএসডিওর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একত্র করে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে তাঁরা অভিযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া ২৪ ও ২৫ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের প্রায় ২৪ জন সরকারি চিকিৎসককে দিয়ে তিনটি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার অভিযোগ করেন তিনি।

দেলাওয়ার হোসেন আরও বলেন, ২৮ অক্টোবর ‘মানব কল্যাণ’-এ সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক ও আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ পেয়েছেন। এসব অভিযোগের পক্ষে ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জামায়াতের প্রার্থী বলেন, তাঁদের অভিযোগের ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘাটতি রয়েছে। তাঁদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং নির্বাচনী বৈঠকে চেয়ার ভাঙচুরের অভিযোগে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে দল-মতনির্বিশেষে একই মানদণ্ড অনুসরণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ভোটারদের ভোটাধিকার রক্ষার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোটাররা কোনো চাপ বা ভয়ভীতি ছাড়াই নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।

নির্বাচন বর্জনের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাঁরা নির্বাচন বর্জন করতে আসেননি; প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এবং শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে চান। প্রশাসনের প্রস্তুতির কথা বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা এখনো আস্থা রাখছেন। তবে ১৯৯৪ সালের মাগুরা নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে তাৎক্ষণিক অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে বিএনপির অভিযোগের জবাবে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, এ অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপদে ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব ভোটারকে নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান, জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীর, সহকারী জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন আহাম্মদ, প্রেস সেক্রেটারি অধ্যক্ষ শাহজালাল জুয়েলসহ অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।