ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে তথ্য ও নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসার ও সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। গ্রাহকসেবা সহজ করতে নিজস্ব অ্যাপের উন্নয়ন, তথ্যের সুরক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে ব্যাংকটি। এসব বিষয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংয়ে কৃষি ব্যাংকের বর্তমান অবস্থান কী?

সঞ্চিয়া বিনতে আলী : গ্রাহকরা যেকোনো সময় ও স্থান থেকে দ্রুত, সহজ এবং নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা পেতে চান। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে গ্রাহকরা মোবাইল অ্যাপ, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কিউআর কোড, আইবিএফটি ও আরটিজিএসের মতো ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন করছেন। গত তিন থেকে চার বছরে ব্যাংকের ডিজিটাল গ্রাহক ও লেনদেনের পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। অর্থ স্থানান্তর, বিল পরিশোধ ও ব্যবসায়িক লেনদেনেও ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

গ্রাহকদের ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে যুক্ত করতে আপনাদের বিশেষ উদ্যোগ কী?

সঞ্চিয়া বিনতে আলী : গ্রাহকদের ডিজিটাল সেবায় উৎসাহিত করতে ব্যাংকের নিজস্ব মাইবিকেবি অ্যাপে নতুন নতুন সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে। অ্যাপটিকে আরও সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে গ্রাহকরা ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা নিতে পারেন।

দেশে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসারে প্রধান বাধাগুলো কী কী?

সঞ্চিয়া বিনতে আলী : ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসারে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে প্রান্তিক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্মার্টফোনের ব্যবহার এবং প্রযুক্তিগত সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি ওটিপি বা ব্যক্তিগত তথ্য চুরির আশঙ্কা, দ্রুতগতির ইন্টারনেটের অভাব এবং নগদ অর্থ ব্যবহারের প্রবণতা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসারে বাধা সৃষ্টি করছে।

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যের গোপনীয়তা কীভাবে নিশ্চিত করছেন?

সঞ্চিয়া বিনতে আলী : গ্রাহকের তথ্যের সুরক্ষা ও গোপনীয়তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অ্যাপে প্রবেশের জন্য পাসওয়ার্ড এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে ওটিপি ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া তথ্য আদান-প্রদান ও লেনদেনে এসএসএল/টিএলএস এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যাতে গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষিত থাকে।

ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা খাতে কী পরিমাণ বিনিয়োগ করছেন?

সঞ্চিয়া বিনতে আলী : ব্যাংকের বার্ষিক তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রযুক্তি বাজেটের উল্লেখযোগ্য অংশ সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে ব্যয় করা হয়। এ ক্ষেত্রে নেক্সট জেনারেশন ফায়ারওয়াল, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ফায়ারওয়াল, আইপিএস, আইডিএস, অ্যাডভান্সড থ্রেট প্রোটেকশন, ডিপ সিকিউরিটি এবং অ্যান্টি-ডিডিওএস প্রযুক্তির ব্যবহার ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে।

ডিজিটাল লেনদেনে প্রতারণার শিকার হলে গ্রাহকের অর্থ সুরক্ষা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে ব্যাংকের নীতিমালা কী?

সঞ্চিয়া বিনতে আলী : প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সার্বক্ষণিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট বা কার্ড ব্লক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কোনো লেনদেন নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তা তদন্ত করে নিষ্পত্তি করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং সাইবার হামলার পর দ্রুত সেবা পুনরুদ্ধারে কী ব্যবস্থা রয়েছে?

সঞ্চিয়া বিনতে আলী : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণে ব্যাংক প্রস্তুত রয়েছে। নিরাপদ ডিজিটাল ব্যাংকিং নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ এবং কর্মীদের প্রযুক্তিগত সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গ্রাহকদের জন্য নতুন কী সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে?

সঞ্চিয়া বিনতে আলী : আমাদের লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিনির্ভর ও নগদ অর্থের ব্যবহার কমানো যায় এমন একটি স্মার্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে ই-কেওয়াইসি পদ্ধতিতে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ঘরে বসে দ্রুত ব্যাংক হিসাব খোলার সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে গ্রাহকদের ব্যাংকের শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন কমবে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রাহকদের সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি আর্থিক সেবার আওতা বাড়বে।

অনলাইন জুয়ার পেমেন্ট ব্যবস্থায় ব্যাংকারদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য কী?

সঞ্চিয়া বিনতে আলী : অনলাইন জুয়া একটি অবৈধ ও দন্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান শূন্য সহনশীলতা। সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএফআইইউতে প্রতিবেদন আকারে পাঠানো হয়। কোনো ব্যাংকার বা কর্মকর্তা অবৈধ লেনদেনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করলে অভ্যন্তরীণ তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়া, বেটিং ও অবৈধ লেনদেন প্রতিরোধে পেমেন্ট গেটওয়ে এবং ব্যাংকিং চ্যানেলগুলোর ওপর নজরদারি করা হচ্ছে।