উয়েফা এবং ‘ফ্রান্স ফুটবল’ যৌথ আয়োজেন ‘সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি’অর’ জিতেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সম্প্রতি ব্যালন ডি’অরের নিয়মিত বর্ষসেরা খেতাবগুলোর পাশাপাশি আয়োজন করা হয়েছিল ফুটবলের বিশেষ এক ভোটাভুটির, যার নাম দেওয়া হয় ‘বিওএটি’ বা 'ব্যালন ডি'অর অব অল টাইম'।
ব্যালন ডি’অরের সব ঐতিহাসিক বিজয়ী মৌসুমগুলোর মধ্য থেকে সর্বকালের সেরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স বাছাই করতেই ফ্রান্স ফুটবল ও উয়েফা মিলে বিশ্বব্যাপী ভক্তদের জন্য খুলে দেয় এই প্ল্যাটফর্ম। বিশ্বজুড়ে ভক্তদের সেই ভোটে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসিকে হারিয়ে ইতিহাসসেরা ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বীকৃতি পেয়েছেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে ২০০৮ সালে রোনালদোর প্রথম ব্যালন ডি’অর জয়ী মৌসুমটিকে সমর্থকরা ইতিহাসের সেরা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সেই মৌসুমে তরুণ রোনালদো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ৩১ গোল এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৮ গোলসহ মোট ৪২ গোল করে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে নিয়ে এসেছিলেন ডাবল শিরোপা। চেলসির বিপক্ষে ফাইনালে গোল করার পাশাপাশি দলের প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের মূল কারিগর ছিলেন ২৩ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ।
এ সব মিলিয়ে ভক্তদের দৃষ্টিতে ২০০৮ সালের রোনালদোর সেই অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ছাপিয়ে গেছে ২০১২ সালে এক বর্ষপঞ্জিকায় মেসির রেকর্ড ৯১ গোলের অসামান্য অর্জনকেও, যা ভোটাভুটিতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। ৩ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে ২০১৭ সালে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে রোনালদোর জেতা শেষ ব্যালন ডি'অরটি।
ভোটের সার্বিক তালিকায় রোনালদো ও মেসির প্রবল আধিপত্যই দেখা গেছে। প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ ফল অনুযায়ী, প্রথম দুই স্থানের পাশাপাশি শীর্ষ ১২টি সেরা ব্যালন ডি’অর জয়ের সবকটিই দখল করে রেখেছেন এই দুজন। তালিকায় চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ২০২৩ সালের মেসি এবং ২০১৬ সালের রোনালদো। এরপর ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ স্থানে পর্যায়ক্রমে রয়েছে রোনালদোর ২০১৪, মেসির ২০১৫, রোনালদোর ২০১৩, মেসির ২০১১, ২০০৯, ২০১৯ ও ২০২১ সালের জয়গুলো। তাঁদের এই অসামান্য নৈপুণ্যের পর ১৩ নম্বরে জায়গা পান ২০০২ সালে ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও।
ভোটাভুটির এই পুরো আয়োজনটি পরিচালিত হয়েছিল এক বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ব্যালন ডি’অরের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ বছর উয়েফা এবং ‘ফ্রান্স ফুটবল’ সাময়িকী যৌথভাবে ‘ব্যালন ডি’অর অব অলটাইম’ বা সংক্ষেপে ‘বোট’ (B.O.A.T) নামের এই নতুন পুরস্কারের প্রবর্তন করে। ব্যালন ডি’অর জয় করা ঐতিহাসিক মৌসুমগুলোর মধ্যে কোন মৌসুমটি সর্বকালের সেরা, তা বৈশ্বিকভাবে নির্ধারণ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অন্তত দুবার ব্যালন ডি’অরজয়ী কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার পোল চালু করা হয়েছিল গত ১ অক্টোবর থেকে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটের জন্য ১ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩৮ টাকা) খরচ করে যত খুশি তত ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। যদিও কোনো ভৌত ট্রফি এই আয়োজনে প্রদান করা হয় না, তবুও বিশ্বের কোটি সমর্থকের রায়ে মেসির ২০১২ সালের ৯১ গোলের রূপকথা কিংবা সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাসকে টপকে ২০০৮ সালের উইঙ্গার রোনালদোর উত্থানকেই সেরার মুকুট পরিয়েছেন ভক্তরা।
ভোটের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল তালিকা
|
র্যাংক |
খেলোয়াড় |
বছর |
|
১. |
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো |
২০০৮ |
|
২. |
লিওনেল মেসি |
২০১২ |
|
৩. |
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো |
২০১৭ |
|
৪. |
লিওনেল মেসি |
২০২৩ |
|
৫. |
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো |
২০১৬ |
|
৬. |
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো |
২০১৪ |
|
৭. |
লিওনেল মেসি |
২০১৫ |
|
৮. |
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো |
২০১৩ |
|
৯. |
লিওনেল মেসি |
২০১১ |
|
১০. |
লিওনেল মেসি |
২০০৯ |
|
১১. |
লিওনেল মেসি |
২০১৯ |
|
১২. |
লিওনেল মেসি |
২০২১ |
|
১৩. |
রোনালদো নাজারিও |
২০০২ |
|
১৪. |
লিওনেল মেসি |
২০১০ |
|
১৫. |
রোনালদো নাজারিও |
১৯৯৭ |
|
১৬. |
কেভিন কিগান |
১৯৭৯ |
|
১৭. |
ইয়োহান ক্রুইফ |
১৯৭৪ |
|
১৮. |
মিশেল প্লাতিনি |
১৯৮৪ |
|
১৯. |
ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার |
১৯৭৬ |
|
২০. |
মার্কো ভ্যান বাস্তেন |
১৯৮৮ |
|
২১. |
ইয়োহান ক্রুইফ |
১৯৭১ |
|
২২. |
ইয়োহান ক্রুইফ |
১৯৭৩ |
|
২৩. |
ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার |
১৯৭২ |
|
২৪. |
মিশেল প্লাতিনি |
১৯৮৫ |
|
২৫. |
মার্কো ভ্যান বাস্তেন |
১৯৮৯ |
|
২৬. |
আলফ্রেদো দি স্টেফানো |
১৯৫৭ |
|
২৭. |
কেভিন কিগান |
১৯৭৮ |
|
২৮. |
মার্কো ভ্যান বাস্তেন |
১৯৯২ |
|
২৯. |
মিশেল প্লাতিনি |
১৯৮৩ |
|
৩০. |
কার্ল-হেইনজ রুমেনিগে |
১৯৮১ |
|
৩১. |
আলফ্রেদো দি স্টেফানো |
১৯৫৯ |
|
৩২. |
কার্ল-হেইনজ রুমেনিগে |
১৯৮০ |