কেইনের ব্যালন ডি’অর জয়ে বন্ধু কোহলির শুভেচ্ছা 

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

খেলার ধরন ভিন্ন, খেলার ময়দানও আলাদা। তবে পেশাদারিত্ব, অধ্যবসায় আর কঠোর পরিশ্রমের জায়গায় তারা যেন একই সুতোয় গাঁথা। ২৫ বছর পর কোনো ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে হ্যারি কেইনের ব্যালন ডি’অর জয়ের ঐতিহাসিক মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে এলো ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম বড় তারকা বিরাট কোহলির অভিনন্দনময় বার্তা। 

কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা লামিন ইয়ামালকে পেছনে ফেলে কেইনের এই ট্রফি জয় নিয়ে ফুটবল বিশ্ব বিভক্ত হলেও, কোহলির চোখে এই পুরস্কারের শতভাগ যোগ্য দাবিদার ছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের এই ইংলিশ স্ট্রাইকার।

দুই ক্রীড়াতারকার বন্ধুত্বের গল্প ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগের চেয়ে অনেক কম সক্রিয় থাকা কোহলি বন্ধুর এমন রাজকীয় মুহূর্তে অভিনন্দন জানাতে ভুল করেননি। ইনস্টাগ্রামে একটি বিশেষ বার্তা পোস্ট করে বন্ধু কেইনের ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রশংসা করেন এই ভারতীয় ব্যাটিং মাস্টারমাইন্ড।

কোহলি তার অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে কেইনের উদ্দেশ্যে লেখেন, ‘হ্যারি বন্ধু আমার, শীর্ষপর্যায়ের ফুটবলে এতগুলো বছর ধরে তুমি যে ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম এবং সততার সাথে নিজেকে নিয়ে এগিয়েছ, তাতে এই পুরস্কারের প্রতিটি কণার যোগ্য দাবিদার তুমি। তোমার জন্য সত্যিই খুব খুশি। ঈশ্বর তোমাকে ও তোমার পরিবারকে মঙ্গল করুন। তোমার এই দুর্দান্ত যাত্রায় তারা নিশ্চয়ই অনেক গর্বিত। আমার শুভকামনা সবসময় তোমার সাথেই থাকবে। অনেক অভিনন্দন।’ 

অন্যদকে, লন্ডনের জমকালো মঞ্চে ২৫ বছর পর ইংল্যান্ডের প্রথম ফুটবলার হিসেবে সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরে কেইনও শুনিয়েছেন শৈশবের স্বপ্ন আর রিজেকশন পেরিয়ে শীর্ষে পৌঁছানোর গল্প। ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্তে বায়ার্ন ও ইংল্যান্ডের সতীর্থদের পাশাপাশি নিজের পুরোনো ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে পুরস্কার গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কেইন বলেন, ‘ফ্রান্স ফুটবলকে এত দারুণ একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আবার লন্ডনে আসাটা আমার জন্য অতিরিক্ত স্পেশাল কিছু। ব্যালন ডি’অর আয়োজকদের ও যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এবার প্রতিযোগিতা কতটা কঠিন ছিল তা আমি অনুমান করতে পারি। আজ রাতে এই রুমে যেসব বিশ্বমানের খেলোয়াড় আছেন, তাদের সাথে লড়াই করে এই জয় পাওয়াটা দারুণ এক অর্জনের প্রমাণ।’ 

একদিকে ক্যারিয়ারের সুদীর্ঘ সংগ্রামের পর কেইনের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জয়, অন্যদিকে ২২ গজের সেরা তারকা কোহলির এই শুভেচ্ছার বার্তা, সব মিলিয়ে ২০২৬ ব্যালন ডি’অরের মঞ্চটি যেন ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে সমগ্র ক্রীড়াজগতের এক ঐতিহাসিক মেলবন্ধনে পরিণত হলো।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত