জনমত জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র চার দিন বাকি। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণের ভোট নয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার ভবিষ্যৎও এর সঙ্গে জড়িত। নির্বাচনে কংগ্রেসের কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয় অনুমোদন এবং অভ্যন্তরীণ নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা তৈরি হতে পারে। আর এই নির্বাচনের আগে জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপে রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। কিন্তু সিনেটের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিতে দুই দলই জোর প্রচার চালাচ্ছে। বুধবার ওহাইও, জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনায় নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

রিয়েলক্লিয়ারপোলিংয়ের জাতীয় জনমত জরিপের গড় হিসাবে, ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ, জাতীয় পর্যায়ে ৮ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। টেক্সাসে ১৯৮৮ সালের পর কোনো সিনেট নির্বাচনে জয় পায়নি ডেমোক্র্যাটরা। এবার সেখানে দলটির প্রার্থী জেমস তালারিকো ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ সমর্থন নিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছে রিয়েলক্লিয়ারপোলিং। মিশিগানেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের সমর্থন বেড়েছে। সিবিএস ডেট্রয়েটের জন্য মিচেল রিসার্চের ২৬ ও ২৭ অক্টোবরের জরিপে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের চেয়ে ৭ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। জরিপে এল-সায়েদের সমর্থন ৫১ শতাংশ এবং রজার্সের ৪৪ শতাংশ। চলতি মাসের শুরুতে ব্যবধান ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। এগিয়ে থাকলেও মিশিগানে তরুণ ভোটারদের সমর্থন পেতে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা।

ফ্লোরিডা থেকে মিশিগানে এল-সায়েদের পক্ষে প্রচারে আসা ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ম্যাক্সওয়েল ফ্রস্ট বলেন, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তার অভিযোগ, এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে নেতিবাচক, বিদ্বেষমূলক ও ইসলামবিদ্বেষী বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়েছে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরাও তরুণ ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।

আগামী ৩ নভেম্বরের এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট হবে। এ ছাড়া ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচিত করবেন ভোটাররা। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আইনপ্রণেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে।