প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানে চার দিনের সরকারি সফর সম্পন্ন করেছেন। সফর শেষে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় রওনা হওয়ার কথা থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফেরত যাত্রা প্রায় ৫ ঘণ্টা বিলম্বিত হয়।
বিমানের প্রকৌশলীরা যান্ত্রিক ত্রুটি সারানোর পর টোকিও সময় রাত ১১টায় ফ্লাইটটি নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। বাংলাদেশ সময় গতকাল রাত ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটটির ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিমানসূত্রের তথ্যানুযায়ী, নারিতা বিমানবন্দরে বিমানের বিজি-৩৭৭ ভিভিআইপি ফ্লাইটটিতে উড্ডয়নের ঠিক আগে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। নির্ধারিত বোর্ডিং ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে উড়োজাহাজটিকে টার্মিনাল থেকে পুশব্যাক করা হয়। পরে রানওয়ের উদ্দেশে ট্যাক্সি করার সময় পাইলটরা ককপিটে উড়োজাহাজটির স্পয়লারে ত্রুটি থাকার সংকেত দেখতে পান। ককপিট থেকে ক্যাপ্টেন এক ঘোষণায় উড়োজাহাজের যাত্রীদের জানান, একটি যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে এবং প্রকৌশলীরা তা সমাধানে কাজ করছেন।
যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাইলট তাৎক্ষণিকভাবে উড্ডয়নের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন।
প্রায় ৪০ মিনিট পর ক্যাপ্টেন আবার এক ঘোষণায় যাত্রীদের জানান, প্রকৌশলীরা ত্রুটি সমাধানের কাজ চালিয়ে যাওয়ায় ফ্লাইটটি আগের অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে। কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে সমন্বয় করে উড়োজাহাজটিকে নিরাপদে পার্কিং বে-তে ফিরিয়ে আনা হয়।
উড়োজাহাজে ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও প্রকৌশলী মান্নানের নেতৃত্বে বিমানের প্রকৌশল দল মেরামতের কাজ শুরু করে। তারা দ্রুততার সঙ্গে স্পয়লারের ত্রুটি সারিয়ে উড়োজাহাজটি পুনরায় উড্ডয়নের উপযোগী করে তোলেন। এ বিলম্বের সময় প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের এ সরকারি সফরে তারেক রহমান গত ২৬ অক্টোবর রবিবার টোকিও পৌঁছান। পর দিন সোমবার দুই নেতা জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক করেন। তারা দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং উন্নয়ন সহযোগিতা পেরিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে জোর দেওয়ার বিষয়ে একমত হন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল সকালে জাপান সফরের অংশ হিসেবে দেশটির নাগোয়ায় অবস্থিত টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করেন। তিনি কারখানার গাড়ি সংযোজন প্রক্রিয়া ঘুরে দেখেন। এ সময় টয়োটার প্রথম সেডান কারটিও তিনি ঘুরে দেখেন। টয়োটা কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে গাড়িটিতে ওঠার আমন্ত্রণ জানান। তারেক রহমান স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে গাড়িটিতে উঠেন।
বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৩৫ সালে টয়োটা পরিবারের প্রথম গাড়ির প্রোটোটাইপ ‘টয়োটা মডেল এ-ওয়ান’ তৈরি হয় এবং এর ধারাবাহিকতায় ১৯৩৬ সালে টয়োটার প্রথম বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী গাড়ি ‘টয়োটা মডেল এএ’ নির্মিত হয়। বর্তমানে জাপানের টয়োটা সংগ্রহশালায় গাড়িটির প্রতিরূপ সংরক্ষিত রয়েছে।
পরিদর্শনকালে টয়োটা মোটর করপোরেশনের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসাহিকো মোয়েদা, টয়োটা সুশো করপোরেশনের মোবিলিটি বিভাগের সিইও শিগেরু হারাদা এবং চিফ অপারেটিং অফিসার শিনিচিরো ওতসুকাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ অন্যরা।