মেঘনা থেকে গুলিবিদ্ধ জেলে উদ্ধার, হাসপাতালে মৃত্যু

বরিশালের হিজলা উপজেলায় মেঘনা নদী থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আক্তার হাওলাদার (৪০) নামে এক জেলেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দুপুর ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে। তবে কীভাবে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, আক্তার অন্য জেলেদের সঙ্গে নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।

ওসি জানান, আক্তারের সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় তীরে নিয়ে আসেন। পরে তারা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্তারকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এ সময় তাকে গুলি করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তিনি কিছু বলতে পারেননি। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।

ওসি আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই সময় নদীতে তাদের কোনো দল অভিযান পরিচালনা করছিল না। আক্তার কীভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে খবর দেন, মেঘনা নদীতে একজন জেলেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই জেলেকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কারা এই গুলি করেছে, তা জেলেরা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি।