বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরি মৃত্যুর ঘটনায় তার ব্যবসায়িক পার্টনার ও বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই দ্বীপ রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিখোঁজ হওয়ার আগে দ্বীপের ডাকেই বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন, তাহসিফ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে তথ্য সংগ্রহের জন্য তাকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসা থেকে পিবিআইর ঢাকা মেট্রো উত্তরের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ।
পিবিআইয়ের কর্মকর্তা বলেন, ‘গত রাতে তাকে সেখানে নেওয়া হয়। যেহেতু দ্বীপ ও তাহসিফ এক সঙ্গে অনেকটা সময় পরা করেছেন, সে কারণেই কিছু তথ্য সংগ্রহে তাকে হেফাজতে নেয়া হয়। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফ সৌরির ভাসমান লাশ বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
পরে তার বাবা এনায়েতুল করিম জানান, মঙ্গলবার সারাদিনই তাহসিফ তার মায়ের সঙ্গে ছিলেন। পরে সন্ধ্যায় দ্বীপের ফোন কলেই তাহসিফ বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। সর্বশেষ রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাহসিফ তার মায়ের মোবাইলে একটা বার্তা পাঠিয়ে জানান, তিনি বাসায় ফিরছেন। কিন্তু এরপর থেকে আর তাহসিফ সৌরির খোঁজ মিলছিল না।
এদিকে, তাহসিফের বাসার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে দ্বীপ একটি মোটরসাইকেল নিয়ে তাহসিফ সৌরির বাসার নিচে গ্যারেজে আসেন। সেখানে প্রথমে তিনি মোটরসাইকেলে তার হেলমেটটি রাখেন। এরপর পাশেই নিজের পোশাক দিয়ে চোখ-মুখ মুছতে দেখা যায় তাকে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসা থেকে নেমে গ্যারেজে চলে আসেন তাহসিফ। এরপর দ্বীপের সঙ্গে হাত মেলান। সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে দুজনকে দুটি মোটরসাইকেলে করে বাইরে চলে যেতে দেখা যায়।
এই ঘটনায় তাহসিফের এক স্বজন জানান, বৃহস্পতিবার তিনি দ্বীপের সঙ্গে কথা বলেন। তার ভাষ্য, দ্বীপ তাদের বলেছেন, তাহসিনের বাইকের সমস্যা থাকায় প্রথমে তারা গ্যারেজে গিয়ে বাইক ঠিক করেন। পরে তারা একসঙ্গে দ্বীপের বাসায় রাতে খাওয়াদাওয়া করেছেন। পরে তাহসিফকে তার বাসার এলাকাতেই রেখে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছেন দ্বীপ।
কিন্তু যে তাহসিফ যে বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন সেই বাইকের সন্ধান মেলেনি এখনও। তাহসিফের পরিবারের ওই স্বজন বলেন, ‘পুলিশ আমাদের কাছে বাইকের ডিটেইলস, ছবি চেয়েছে। আমরা দিয়েছি, পুলিশ এটা বলতে পারবে।’
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে দেশত্যাগের যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে, সেটি তাহসিফ সাউরী ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে।
গত জুলাইয়ে এক পডকাস্টে তাহসিফকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ওই ভিডিও ধারণ করায় বিমান বাহিনী থেকে তার চাকরি গেছে কি না। জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘হতে পারে।’