আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে ২০০ উইকেটের অবিস্মরণীয় মাইলফলক স্পর্শ করলেন আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খান। শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এই ইতিহাস গড়েন তিনি।
রশিদের রেকর্ড গড়ার এই ঐতিহাসিক রাতে ধ্বংসস্তূপ থেকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ওমরজাইয়ের দারুণ সেঞ্চুরির পর ম্যাচটাও ১৯ রানে জিতেছে আফগানরা। এতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে তারা।
নিজের ১২০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে এসে অনন্য এই উচ্চতায় পৌঁছালেন আফগান অধিনায়ক, যেখানে তালিকার দুই নম্বরে থাকা ইংল্যান্ডের আদিল রশিদের ঝুলিতে ১৫৩ ম্যাচে রয়েছে ১৭১টি উইকেট। এদিকে রশিদের রেকর্ড গড়ার এই ঐতিহাসিক রাতে জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক সিকান্দার রাজার সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন। অবশ্য বাঁচাতে পারেননি সিরিজ হারটা। এদিকে এই তারকার রেকর্ড ছাড়াও আফগানদের ব্যাটিং ইনিংসে হয়েছে একাধিক রেকর্ড।
শারজাহতে ম্যাচের শুরুটা অবশ্য আফগানদের জন্য ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। ইনিংসের পাওয়ার প্লে ও নবম ওভারের মধ্যে মাত্র ৩৮ রান তুলতেই টপ অর্ডারের ৫ ব্যাটার সাজঘরে ফিরে যান। তখন বড় সংগ্রহ পাওয়া নিয়েই তীব্র টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। তবে এমন চরম ব্যাটিং ধসের পর দলের হাল ধরেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও এজাজ আহমাদজাই। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে এই দুজন মাত্র ৫৯ বলে অবিশ্বাস্য এক জুটি গড়ে তোলেন, যা থেকে আসে ১৪২ রান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ষষ্ঠ বা তার নিচের উইকেটে এটিই ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ড জুটি।
৫০ বলে ৫টি চার ও ১২টি ঝোড়ো ছক্কায় ১১৬ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন ওমরজাই। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি তার প্রথম এবং আফগান ব্যাটারদের মধ্যে চতুর্থ সেঞ্চুরি। একই সঙ্গে ফুল-মেম্বার দেশের কোনো ব্যাটার হিসেবে টপ ফাইভের নিচে নেমে সেঞ্চুরি করার অনন্য নজির গড়লেন তিনি। ওমরজাইকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে এজাজ আহমাদজাই করেন ২৭ বলে ৫২ রান। এরপর ইনিংসের শেষ দিকে ঝড় তোলেন অধিনায়ক রশিদ। মাত্র ৬ বল খেলে ৪টি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ২৫ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন তিনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২২১ রানের পাহাড়ে পৌঁছায় আফগানিস্তান।
এর মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে প্রথম চার উইকেট ২০ রানের নিচে হারিয়েও দুই শ বা ততোধিক রান করার অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়ে তারা। তাছাড়া ইনিংসের শেষ দশ ওভারে আফগানিস্তানের তোলা ১৭৬ রান ফুল-মেম্বার দেশগুলোর মধ্যে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এক ইনিংসে শেষ দশ ওভারের সর্বোচ্চ রান।
২২২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আফগান বোলিং তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের মাঝপথে ৮৫ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে শুরু করে সফরকারীরা। তবে সেই কঠিন পরিস্থিতিতেও একপ্রান্ত আগলে রেখে বীরোচিত লড়াই চালিয়ে যান জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক রাজা। ৪০ বছর ১৮৮ দিন বয়সে অপরাজিত ১০২ রানের এক বীরত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি বয়সে সেঞ্চুরি হাঁকানোর নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।
আর এই রান তাড়াতেই বল হাতে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসের এর আগে কখনো না দেখা রেকর্ডে নাম লেখান রশিদ। ঐতিহাসিক সেই ২০০তম উইকেট শিকারের পাশাপাশি তার এই মাইলফলকটি এশিয়ার মাটিতে তার ১৫০তম উইকেটও বটে।
শেষ পর্যন্ত রাজার সেঞ্চুরি ও জিম্বাবুয়ের লড়াই সত্ত্বেও জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারেনি সফরকারীরা; তারা ২০ ওভারে তুলতে পারে ২০২ রান। এদিকে ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে করেছে ৪২৩ রান, যা শারজাহর মাঠে কোনো আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ।