টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে চার-ছক্কাকে যেন মুড়ি-মুড়কির মতো বানিয়ে ফেলেছেন ভারতের ব্যাটাররা। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদের বোলারদের জন্য মুহূর্তটা যখন হাপিত্যেশ, আর অভিষেক-সূর্যবংশী-স্যামসনদের তখন রানের উৎসব। স্বাগতিকদের দেওয়া ১৯৯ রানের টার্গেটকে কোনো তোয়াক্কাই না করে ১৩ ওভার ২ বলেই জিতে নিল শ্রেয়াস আইয়ারের দল। আর ৬ উইকেটের এই জয়ে সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতে সিরিজটাও নিজেদের করলো ভারত। সিরিজে এখনো বাকি দুই ম্যাচ।
আর এই তাণ্ডবের কান্ডারি ছিলেন ওপেনার অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩৫ বলে তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। অবশ্য ৪০ দিন আগেই আরও দ্রুততম সেঞ্চুরি করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার, আফগানিস্তানের বিপক্ষে কেবল ৩০ বলে। যা ছিল টেস্ট খেলুড়ে কোনো দলের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে কোনো ব্যাটারের সবচেয়ে কম বলে সেঞ্চুরি কীর্তি।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই সতর্ক ও আগ্রাসী মেজাজে ছিল নিউজিল্যান্ড। কিউই ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ড্যারিল মিচেল ৫২ বলে ৮৯ রানের অপরাজিত এক দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। এছাড়া বেভন জ্যাকবসের ব্যাট থেকে আসে ২৩ বলে ৩৯ রান। প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে ভারতীয় পেসারদের শর্ট বলের স্ট্র্যাটেজি খুব একটা কাজ না করলেও, এই ম্যাচে তারা পুরোপুরি নিজেদের পরিকল্পনা বদলে ফেলেন।
বিশেষ করে পিচের কন্ডিশন বুঝে ফুল লেংথ ডেলিভারিতে জোর দেন ভারতের বোলাররা। ৯৬টি বলের মধ্যে ৫৮টিই ফুল লেংথে করে কিউই ব্যাটারদের রান আটকে রাখেন তারা। শেষ ওভারে প্রিন্স যাদব মাত্র ৯ রান খরচ করলে ৩ উইকেটে ১৯৮ রানে থামে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। উইকেটটা কম হারালেও এই সংগ্রহটা শেষ পর্যন্ত ভারতের কাছে মামুলিই হয়ে গেল।
১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই তাণ্ডব শুরু করেন ভারতের দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও বৈভব সূর্যবংশী। পেসারদের ওপর চড়াও হয়ে পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারেই কোনো উইকেট না হারিয়ে ১১৮ রান তুলে ফেলে ভারত, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাওয়ারপ্লেতে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের বিশ্বরেকর্ড। এর আগে ২০২১ সালে সার্বিয়ার বিপক্ষে রোমানিয়ার ১১৪ রান ছিল এই রেকর্ডের শীর্ষে।
ইনিংসের চতুর্থ ওভারে কাইল জেমিসনকে জোড়া চার-ছক্কায় উড়িয়ে মাত্র ১৫ বলেই ফিফটি পূর্ণ করেন অভিষেক। তার সঙ্গী বৈভব ১৯ বলে ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে লং-অনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলেও ততক্ষণে জয়ের পথ প্রশস্ত হয়ে গেছে।
বৈভব আউট হওয়ার পর যেন আরও চড়াও হন অভিষেক। কাইল জেমিসনকে পুল করে ওপর দিয়ে বল পাঠিয়ে মাত্র ৩৫ বলে নিজের সেঞ্চুরি তুলে নেন এই ওপেনার। এটি তার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতক। অবশ্য আগের ওভারেই লাইফ পান তিনি। ক্যাচটা ফেলছেন অধিনায়ক স্যান্টনার, তখন ২৯ বলে ৯৫ রানে ব্যাট করছিলেন অভিষেক।
শেষ পর্যন্ত আউট হওয়ার আগে মাত্র ৩৮ বলে ৯টি চার ও ১১টি ছক্কায় ১১৩ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। অর্থাৎ, তার ব্যাট থেকে প্রতি ১.৯ বলেই একটি করে বাউন্ডারি বা ওভার-বাউন্ডারি এসেছে!
ইনিংসের মাঝপথে মিচেল স্যান্টনার কিছুটা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে রান নেওয়ার গতি কমালেও বড় ক্ষতি করতে পারেননি। শেষদিকে ভারত দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা হোঁচট খেলেও জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে কোনো সমস্যা হয়নি। নির্ধারিত ওভারের অনেক আগেই, ৪০ বল বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ভারত।