নিষেধাজ্ঞা শেষের পর সকালেই এত ইলিশ, মাছ ধরা হয়েছিল কখন?

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারের দেওয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে ২৯ অক্টোবর রাত ১২টায়। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর গভীর রাত থেকে ভোরের মধ্যে ইলিশবোঝাই ট্রলার নিয়ে আলিপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরে ফিরতে শুরু করেন জেলেরা। অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ ইলিশ নিয়ে ট্রলারগুলোর বন্দরে ফেরার ঘটনায় নিষেধাজ্ঞার শেষ সময়ে মাছ শিকার এবং প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় নদী ও সাগরে মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও কিছু অসাধু জেলে ও ট্রলার মালিক তা মানেননি। বিশেষ করে অবৈধ ট্রলিংয়ের মাধ্যমে কয়েকটি ট্রলার সাগরে মাছ শিকার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিষেধাজ্ঞার শেষ রাতের কর্মকাণ্ড এবং ভোরে মাছ নিয়ে বন্দরে ফেরা ট্রলারগুলোর বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Kuakata 2

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ২২ দিনের বিরতি শেষে আলিপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। মাছবোঝাই ট্রলার বন্দরে ভিড়তে শুরু করেছে। পাশাপাশি আড়তগুলোতেও জমে উঠেছে ইলিশের বেচাকেনা। দীর্ঘদিন পর মাছের সরবরাহ শুরু হওয়ায় জেলে, আড়তদার ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেছে। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই বিপুলসংখ্যক ট্রলারের মাছ নিয়ে বন্দরে ফেরার ঘটনা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সেফ দ্য বে অব বেঙ্গলের সেক্রেটারি জেনারেল মো. কাওসার মনির বলেন, ‘আমাদের উপকূলের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য আহরণের সঙ্গে জড়িত। সমুদ্রের মাছ আহরণ করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু কিছু অসাধু জেলে ও অবৈধ ট্রলিং ব্যবসায়ী সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরে মাছ শিকার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই মধ্যরাতে মাছ নিয়ে ট্রলার বন্দরে ফিরেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রতিবছরই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মাছ শিকারের অভিযোগ ওঠে। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়বে। অবৈধ ট্রলিং বন্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।’

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মা ইলিশ রক্ষায় শুধু ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করলেই চলবে না, এর যথাযথ বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। নিষেধাজ্ঞার শেষ রাতসহ পুরো সময়ে সাগরে নজরদারি বাড়ানো, অবৈধ ট্রলিং বন্ধ এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগেই কোনো ট্রলার মাছ শিকার করেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Kuakata 1

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, ‘২৯ অক্টোবর রাত ১২টায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর সকালে মাছ ধরে বন্দরে এনে বিক্রি করলে সেটি বৈধ। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। নিষেধাজ্ঞার সময় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। জেলেদের সতর্ক ও সচেতন করার পাশাপাশি অভিযান পরিচালনা করেছি।’

উল্লেখ্য, মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সাগর ও নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা আবারও সাগরে মাছ আহরণে ফিরেছেন। তবে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অবৈধভাবে মাছ শিকারের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং আইন বাস্তবায়নে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।