মতলবে অভিযানেও থামাছে না ইলিশ শিকার

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১১ পিএম

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চললেও চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মেঘনা নদীতে বন্ধ হচ্ছে না ইলিশ শিকার। নিয়মিত অভিযান, জেল-জরিমানা ও অবৈধ জাল জব্দের পরও একশ্রেণির জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরছেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ।

তাদের অভিযোগ, অভিযানে ব্যবহৃত ট্রলারের চেয়ে জেলেদের নৌকার গতি বেশি হওয়ায় ধাওয়া করেও তাদের আটক করতে পারছে না প্রশাসন। ফলে অনেক সময় পরিত্যক্ত জাল জব্দ করেই ফিরতে হচ্ছে অভিযান পরিচালনাকারীদের।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার এখলাসপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে,  ওই এলাকার মেঘনা নদীতে পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের অভিযানের ট্রলার দেখেই দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে পালিয়ে যান জেলেরা। সর্বোচ্চ গতিতে ধাওয়া করেও তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে নদীতে জাল ফেলে পালিয়ে গেলে মৎস্য বিভাগের কর্মীরা সেই জাল জব্দ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরী আলম বলেন, প্রশাসন ও জেলেদের মধ্যে যেন চোর-পুলিশ খেলা চলছে। অভিযানের ট্রলারের গতি সম্পর্কে ধারণা থাকায় জেলেরা হালকা ও শক্তিশালী ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করছেন। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেলেই দ্রুত পালিয়ে যাচ্ছেন তারা। বিশেষ করে গভীর রাতে এবং টহল শেষ হওয়ার পর নদীতে মাছ ধরার প্রবণতা বেড়ে যায়।

উপজেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও বিক্রি নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩৪টা অভিযান ও ৫টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে  অনেক জেলেকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১২ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং বাকিরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা দিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া সাতটি নৌকা, দেড় লক্ষাধিক মিটার অবৈধ জাল এবং ২০৫ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় জানায়, পেশাদার জেলেদের পাশাপাশি কিছু মৌসুমি জেলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরছেন। নদীর দুর্গম এলাকা ও শাখা নদীগুলোতে নজরদারি কম থাকায় তারা এ সুযোগ নিচ্ছেন। এতে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

তাছাড়া নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেক জেলে। এতে তারা আর্থিক সংকটে ভুগছেন। সরকারি খাদ্যসহায়তা পেলেও তা দিয়ে পরিবারের সব খরচ মেটানো কঠিন বলে জানিয়েছেন তারা।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সজিব চন্দ্র দে জানান, জনবল সংকট, বাজেট স্বল্পতাসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মা ইলিশ সংরক্ষণে সাধ্যমতো চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সীমিত সামর্থ্যের কারণে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব না হলেও অভিযান মোটামুটি সফল হচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত