নেক আমল নষ্ট হয় যেভাবে

মানুষ অনেক কষ্ট ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নেক আমল করে। নিয়মিত নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, দান-সদকা করে এবং মানুষের উপকারে এগিয়ে আসে। এসব আমলের মাধ্যমে সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চায়। কিন্তু কখনো কখনো নিজের অজান্তেই এমন কিছু কাজ করে বসে, যা তার নেক আমলের সওয়াব নষ্ট করে দেয়। তাই নেক আমল করার পাশাপাশি সেগুলো রক্ষা করাও জরুরি। কারণ আমল করাই শেষ কথা নয়, সেই আমল আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন : নেক আমল নষ্ট হওয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ কারণ হলো শিরক। আল্লাহর ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক করলে মানুষের আমল বরবাদ হয়ে যায়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আর অবশ্যই তোমার প্রতি এবং তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি ওহি করা হয়েছে যে, তুমি যদি শিরক করো, তবে তোমার আমল অবশ্যই নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং অবশ্যই তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সুরা জুমার ৬৫)

শিরকের ছোট-বড় অনেক প্রকার রয়েছে। সেগুলো সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞানার্জন করতে হবে। অন্যথায় আমাদের সব নেক আমল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

লোক দেখানো ইবাদত : মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য ইবাদত করা নেক আমল নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ। কেউ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে মানুষের বাহবা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ে, দান করে কিংবা দ্বীনি কাজ করে, তাহলে তার আমল ইখলাস থেকে বঞ্চিত হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ বলেন, ‘আমি শরিকদের শিরক থেকে সবচেয়ে অমুখাপেক্ষী। যে ব্যক্তি কোনো আমল করে এবং তাতে আমার সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করে, আমি তাকে ও তার শিরককে পরিত্যাগ করি।’ (সহিহ মুসলিম ২৯৮৫)

অহংকার ও অপমানজনক আচরণ : কেউ নেক আমল করে নিজেকে অন্যের চেয়ে উত্তম মনে করতে পারেন। নিজের ইবাদত নিয়ে গর্ব করতে পারেন। আবার দান করে কিংবা উপকার করে মানুষকে অপমান করতে পারেন। অথচ মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা খোঁটা ও কষ্ট দিয়ে তোমাদের দানকে নষ্ট করো না।’ (সুরা বাকারা ২৬৪)

এই বিষয়ে আমাদের অত্যন্ত সচেতেন হতে হবে যে, আমরা কারও উপকার করার পর সেই বিষয় নিয়ে যেন তার সঙ্গে এমন কোনো আচরণ না করি, যাতে সে কষ্ট পায়। তাহলে আমাদের এই নেক আমলের সওয়াব নষ্ট হয়ে যাবে।

পরনিন্দা করা : নামাজ-রোজায় যত্নবান হয়েও কেউ যদি পরনিন্দা করেন, অপবাদ দেন কিংবা মানুষের অধিকার নষ্ট করেন, তবে তা তার আখেরাতের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রকৃত নিঃস্ব ব্যক্তির পরিচয় দিতে গিয়ে জানান, কেয়ামতের দিন কেউ নামাজ, রোজা ও জাকাত নিয়ে আসবে, কিন্তু কাউকে গালি দেওয়া, অপবাদ দেওয়া, সম্পদ আত্মসাৎ করা কিংবা অন্যায়ভাবে আঘাত করার কারণে তার নেকি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। (সহিহ মুসলিম ২৫৮১)

পরনিন্দা কেবল বিশৃঙ্খলাই সৃষ্টি করে। আর এর অপরাধ তো মারাত্মক। মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করার মতো অপরাধ। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যে, কষ্টের মাধ্যমে করা আমাদের নেক আমলগুলো যেন গিবতের কারণে হারাতে না হয়।

নেক আমল নিয়ে আত্মতুষ্টি : নিজের আমল নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস মানুষকে আত্মশুদ্ধি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। সে ভাবতে শুরু করে, তার মুক্তি নিশ্চিত। অথচ একজন মুমিনের উচিত আমল করার পরও তা কবুল হওয়ার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়া।

নেক আমল রক্ষা করতে হলে নিয়ত বিশুদ্ধ রাখতে হবে, মানুষের অধিকার আদায় করতে হবে এবং কথাবার্তা ও আচরণে সতর্ক থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমল মানুষের দায়িত্ব, আর তা কবুল করা আল্লাহর অনুগ্রহ। তাই নেক আমল করার পাশাপাশি তা রক্ষা করার চেষ্টাও অব্যাহত রাখতে হবে।

লেখক : ধর্মীয় নিবন্ধকার