এনসিপির গণবিক্ষোভে নাহিদ

দেশে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখা যাচ্ছে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, হাজারো মানুষের রক্তদানের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এক স্বৈরাচারকে বিদায় করা হয়েছে। কিন্তু এখন দেশে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখা যাচ্ছে। তবে পতিত স্বৈরাচার ও নব্য স্বৈরাচার দুই স্বৈরাচারকেই পরাজিত করা হবে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা কর্তৃক ৪ দফা দাবিতে আয়োজিত গণবিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে এনসিপির পক্ষে ৪ দফা দাবি পেশ করেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। দাবিগুলো হলো ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ; একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের গণরায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন; মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা পরিপন্থী সব ধরনের আইন বাতিল ও সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী পাস করা যাবে না এবং জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করে অবিলম্বে রায় কার্যকর করতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, মানুষের বাসায় গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস, রাহাজানি, দোকানদার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ সবার জীবন আজ নাজেহাল। দেশের সব প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করা হচ্ছে, জনগণের কোনো নিরাপত্তা নেই। এই ব্যর্থতার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের। তিনি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বাদ দিয়ে সংবিধান সংশোধনের কাজে ব্যস্ত হয়েছেন।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, গণভোটকে বাদ দিয়ে সংবিধান কাটাছেঁড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। আমরা তার পদত্যাগ দাবিতে শাহবাগে এসেছি। সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে যিনি জ্বালানিমন্ত্রী রয়েছেন, তাকেও পদত্যাগ করতে হবে। না হলে আমাদের এই মিছিল বড় হবে। সেই মিছিল নিয়ে আমরা তারেক রহমানকে ঘেরাও করে দাবি আদায় করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, যে একতরফা সংবিধান সংশোধন কমিটি করা হয়েছে, অবিলম্বে সেই কমিটি বাতিল করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ করতে হবে। কারণ সংবিধান সংস্কার পরিষদ করাটাই ছিল জুলাই সনদ এবং এই গণভোটের অন্যতম প্রতিশ্রুতি। বিএনপি সেই প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের পর প্রথম দিন থেকেই ভঙ্গ করেছে।

তিনি বলেন, শুনছি আগামী ডিসেম্বরে পতিত স্বৈরাচার দেশে আসবে। আমরা জানি, সেই স্বৈরাচারকে এই নতুন স্বৈরাচার কোনোভাবেই মোকাবিলা করতে পারবে না। গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ থেকে বাংলাদেশের জনগণকে বিএনপি রক্ষা করতে পারেনি। যারা নিজেরাই নিজেদের রক্ষা করতে পারেনি, তারা জনগণকে কীভাবে রক্ষা করবে?

ভারতের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার নানা ধরনের চক্রান্ত চলমান রয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তে হত্যা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের পাহাড়ে অশান্তি তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের ওপারে আসামে মুসলমানদের নিপীড়ন করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের নিপীড়ন করা হচ্ছে। দিল্লিতে মসজিদ ভেঙে দেওয়া হচ্ছে এবং বাংলাদেশের মুসলমানদের নিয়েও চক্রান্ত করছে পার্শ্ববর্তী দেশ। বাংলাদেশের হিন্দুদের নিয়েও চক্রান্ত করছে। এসব চক্রান্ত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পারবে না বর্তমান সরকার।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, দেশ ঠিক হওয়া দূরের কথা, দল হিসেবেও বিএনপি ঠিক হয়নি। গত ৯ মাসে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, দখলদারত্ব ও খুনের ঘটনা ঘটছে। এসব বন্ধ না করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক ফ্যাসিবাদী কাঠামোর সংবিধান রক্ষার মিশনে নেমেছেন। আমরা স্পষ্ট করে বলি, যে ব্যর্থ বাংলাদেশ আপনারা তৈরি করেছেন, এর দায় সরাসরি তারেক রহমানকেই নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, যদি কলকাতা হাজার টাকায় গ্যাস দিতে পারে, বাংলাদেশের জনগণকে কেন ২ হাজার ৫০০ টাকায় গ্যাস কিনতে হয়, এই উত্তর জ্বালানিমন্ত্রীকে দিতে হবে।

সমাবেশে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ এনসিপির কেন্দ্রীয়, মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।