‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করুন, জুতাসহ’ ইউএনওর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং প্রশাসনের সাথে দূরত্ব ঘোচাতে তার কার্যালয়ের দরজায় এই ব্যতিক্রমী বার্তা টাঙিয়েছেন। 

কার্যালয়ের প্রবেশপথে নেমপ্লেটের পাশে লেখা রয়েছে, ‘অফিসে প্রবেশের জন্য অনুমতির প্রয়োজন নেই, জুতাসহ প্রবেশ করুন।’ অর্থাৎ তার কক্ষে প্রবেশের আগে আলাদা অনুমতি নেওয়া কিংবা জুতা খুলে রাখার প্রয়োজন নেই।

জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যকার দূরত্ব কমানো এবং সেবাপ্রত্যাশীরা যাতে কোনো সংকোচ ছাড়াই সরাসরি ইউএনওর কাছে নিজেদের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছোট্ট একটি বার্তার মাধ্যমে সরকারি দফতরকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও উন্মুক্ত ও সহজলভ্য করার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল কাফি বলেন, অনেক সময় সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে সহজে পৌঁছাতে না পেরে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে দালালের দ্বারস্থ হন এবং নানা ভোগান্তিতে পড়েন। বরুড়া ইউএনওর কার্যালয়ের এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়াবে।

আরেক সেবাগ্রহীতা বলেন, এটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সরকারি অফিসে শৃঙ্খলা, নিয়মনীতি ও সৌজন্যবোধ বজায় রেখে এমন নির্দেশনা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। ইউএনও মহোদয়ের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভকামনা। আল্লাহ তাকে জনসেবায় আরও অবদান রাখার তৌফিক দিন।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি দফতরে সাধারণ মানুষের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা গেলে সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব কমবে এবং কর্মকর্তাদের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় হবে।

এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি বলেন, সরকারি দফতর মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য। সেবাপ্রত্যাশীরা যেন কোনো সংকোচ বা দ্বিধা ছাড়াই তাদের প্রয়োজনের কথা জানাতে পারেন, সে জন্যই কার্যালয়ের সামনে এ বার্তা দেওয়া হয়েছে। আমার কক্ষে আসতে আলাদা অনুমতির প্রয়োজন নেই, জুতা খুলেও প্রবেশ করতে হবে না। সবাই যেন সহজে প্রশাসনের কাছে এসে সেবা নিতে পারেন এটাই আমার প্রত্যাশা।