নাঈমের লড়াকু ব্যাটিংয়েও ২০০ রানের লক্ষ্য দেওয়া গেল না

আগের দিন (তৃতীয় দিন শেষে) সংবাদ সম্মেলনে স্পিনার নাঈম হাসান আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, লক্ষ্যটা দুই শ’র কাছাকাছি হলে বোলারদের জন্য লড়াই করা সহজ হতো। সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম ফিফটি তুলে তিনি ব্যাটিংয়ে লড়াইটা চালালেন ঠিকই, তবে বাকিদের আসা-যাওয়ার মিছিলে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ থামল ১৪২ রানে। এতে জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে লক্ষ্য দাঁড়াল ১৭০ রানের।

আগের দিন বিকেলে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে দিন শেষ করা দলের পুঁজি বাড়ানোর কঠিন দায়িত্বটা আজ দারুণভাবে পালন করেছেন নাঈম। তবে জাকের, হাসান, তাইজুলরা রাখতে পারেননি উল্লেখযোগ্য অবদান। 

আজ চতুর্থ দিনের সকালে মিরপুরে লড়াইটা শুরুই হয়েছিল সেই শঙ্কাকে সঙ্গী করে। সেখানে শুরুতেই ধাক্কা খায় শান্তরা। ওয়ারিক্যানের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে জাকের আলী ২২ রান করে রস্টন চেজের ক্যাচ হয়ে ফেরেন, এতে দলীয় রান ৮৬ তেই ৭ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। 

এরপর নাঈমের সঙ্গে জুটি বাঁধার চেষ্টা করেন হাসান মাহমুদ। তবে ওয়ারিক্যানের নিচু হওয়া আর্ম বল বুঝতে না পেরে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ৮ রান করে বিদায় নেন হাসান। তার সঙ্গে নাঈমের প্রতিরোধ থেকে আসে ২৬ রান।

দলের লিড যখন দেড় শ পার হওয়ার পথে, তখন হাসান ফেরার পর তাইজুল ইসলামও ৮ রান করে চেজের শিকার হন। দলীয় ১৩২ রানে নবম উইকেটের পতনের পর উইকেটে নামে বৃষ্টি, যার কারণে খেলা কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ থাকে। বৃষ্টি থামার পর ২২ গজে ফিরে আর পিছু হটেনি নাঈম। ঠিক পরের ওভারেই ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৫২ রানের এক দুর্দান্ত ও দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে নাঈম আউট হলে ১৪২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ৯১ বলের সেই দায়িত্বশীল ইনিংসে নাঈম মারেন চারটি চার।

এদিকে উইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট নেন অধিনায়ক চেজ আর ওয়ারিক্যান নেন চারটি। এই ওয়ারিক্যান আবার প্রথম ইনিংসে তুলেছিল ফাইফার। মোটকথা, উইন্ডিজের এই দুই স্পিনারের ঘূর্ণিতে নাস্তানাবুদ হয়েছেন শান্ত-হৃদয়রা। 

১৭০ রানের লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাটিংয়ে নেমে লাঞ্চের আগে কেবল ১ ওভার খেলল উইন্ডিজ। সেখানে ইনিংসের তৃতীয় বলেই সফরকারীদের চমকে দেওয়ার সম্ভাবনা এসেছিল মিরাজদের সামনে। মিরাজের দারুণ এক বল ক্যাম্পবেলের পায়ে লাগলে লেগ বিফোরের জোরালো আবেদন করে দল। আম্পায়ার সাড়া দিলে অধিনায়ক শান্ত নেন রিভিউ। তবে সেখানে আম্পায়ার্স কলে বেঁচে যান ক্যাম্পবেল। ১ ওভার শেষে তাই বিনা উইকেটে সফরকারীদের সংগ্রহ ৮ রান। জয়ের জন্য আরও ১৬২ রান করতে হবে তাদের। হাতে আছে পুরো ১০ উইকেট আর মোট পাঁচ সেশন। 

এর আগে প্রথম ইনিংসে নাঈম ঘূর্ণিতে ২৪৫ রানেই অলআউট হয়ে যায় উইন্ডিজ। ওই ইনিংসে ৪ উইকেট শিকারের পাশাপাশি টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্রুততম ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন নাঈম। আর সাদমানের সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২৭২ রান।