আলোকস্বল্পতায় থামলো বাংলাদেশের উইকেটের মিছিল

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম

পুরো দিন জুড়ে উইকেটের পতন, আলোকস্বল্পতার লুকোচুরি আর ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলে টেস্টের নিয়ন্ত্রণ এখন সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুঠোয়। বোলারদের নৈপুণ্যে দিনটি দুর্দান্ত শুরু করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত ৯০ ওভারের খেলা শেষ হওয়া সম্ভব হয়নি, তবে এই ৬৪.৫ ওভারের লড়াইয়েই পতন ঘটেছে ১২টি উইকেটের। অর্ধেক উইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে আর বাকি অর্ধেকের ৬টি বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের।

আলোর ঘাটতির কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ২৯ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ৭৯ রান। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় দিন শেষের ঘোষণা দেন আম্পায়াররা। এতে ১০৬ রানের লিড নিয়ে আগামীকাল খেলা শুরু করবে জাকের-নাঈমরা। সেখানে লক্ষ্যটা শক্ত অবস্থানে নিতে হাতে উইকেট আছে কেবল চারটি। 

তবে দিনের শুরুটা হয়েছিল স্বস্তি দিয়ে। শান্তদের জন্য। সকালের সেশনে লড়াইয়ের পর লাঞ্চ শেষে স্পিনার নাঈম হাসানের দুর্দান্ত ঘূর্ণিতে ২৪৫ রানেই অলআউট হয়ে যায় উইন্ডিজ। সেঈ ইনিংসে ৪ উইকেট শিকারের পাশাপাশি টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্রুততম ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন নাঈম। এতে ২৭ রানে লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নামে সাদমান-তানজিদরা। 

তবে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দ্বিতীয় সেশনে উইন্ডিজ বোলারদের তোপের মুখে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে লাল-সবুজের দলের টপ অর্ডার। ইনিংসের শুরুতেই তানজিদ হাসান শূন্য রানে ফেরার পর সাদমান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত প্রাথমিক প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও রস্টন চেজের ঘূর্ণি জাদুতে মুহূর্তেই সব ওলটপালট হয়ে যায়।

চেজের জোড়া আঘাত এবং লিটন ও মিরাজের দ্রুত বিদায়ে মাত্র ৫৩ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিকরা। এর মাঝে শর্ট লেগে ক্যাচ ধরতে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে কনকাশন নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন মুমিনুল হক, যা দলের জন্য বড় এক ধাক্কা হয়ে আসে। সেখানে কনকাশন সাব হিসেবে নেমে এখনো উইকেটে টিকে আছেন জাকের। 

দিনের শেষ সেশনে উইকেটে নেমে চরম বিপদের মুখে পড়া দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলার লড়াই শুরু করেন নাঈম ও সেই জাকের। ৩৫ রানের মধ্যে পাঁচ আর ৫৩ রানের মাথায় ছয় উইকেট হারানোর পর এই অবিচ্ছিন্ন জুটিই যেন এখন শেষ ভরসা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত