কুমিল্লা বোর্ডে জিপিএ-৫ কমেছে অর্ধেকের বেশি

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই কমেছে। এবার বোর্ডে গড় পাসের হার ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী। আর শতভাগ পাস করেছে মাত্র চারটি কলেজ। বিপরীতে ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, এবার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ছয় জেলার ৪৫৬ কলেজ থেকে ৯২ হাজার ১৬২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এদের মধ্যে পাস করেছেন ৪৪ হাজার ৭২৭ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৪৭ হাজার ৪৩৫ জন।

শতভাগ পাস করা চারটি কলেজের মধ্যে রয়েছে কুমিল্লা সদরের ময়নামতি ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মেঘনা উপজেলার মুজাফফ আলী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ ও ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ। এছাড়া এবার ১৫ কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাশ করতে পারেননি।

কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার শিক্ষার্থীরা ১৯৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন।

ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এবার ইংরেজি ও উচ্চতর গণিতে অকৃতকার্য হওয়ার হার বেশি। এ কারণে সামগ্রিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে আসক্তি, কয়েকটি আন্দোলন, পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন ও সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা হওয়ায় ফলাফলের অবনতির উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।

তিনি বলেন, যেসব কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি, সেসব ১৫টি প্রতিষ্ঠানকে শিগগিরই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। তাদের জবাব পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত বছরের ফলাফলের তুলনা করলে এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুই সূচকেই অবনতি হয়েছে। ২০২৫ সালে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ২ হাজার ৭০৭ জন। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ পয়েন্ট। আর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১ হাজার ৩৯৪ জন, যা গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি।