রাজশাহী বোর্ডে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। পাসের হার নেমে এসেছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে। যা স্মরণকালের সর্বনিম্ন।
ফলাফল অনুযায়ী, জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৪ হাজার ৫২০ জন। অথচ গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ১৩৭। জিপিএ পদ্ধতি চালুর পর এবারই এই সংখ্যা সর্বনিম্ন। এবারের ফলাফলে ইতিবাচক সকল ক্ষেত্রেই বিপর্যয় ঘটেছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় পাসের হার কম। শতভাগ পাস করা কলেজের সংখ্যা কমেছে। আবার যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে একজনও পাস করেনি এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। এবছর এখানকার ৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে একজনও পাস করেনি।
এমন বিপর্যয়ের মাঝেও তুলনামুলক ভালো ফলের ধারা অব্যাহত রেখেছে মেয়েরা। এবছরও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ছাত্রদের তুলনায় ভালো ফল করেছে ছাত্রীরা। প্রযুক্তির কল্যাণে এখন ঘরে বসেই জানা যায় পরীক্ষার ফল। তাই ফল প্রকাশের দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আগের তুলনায় কমেছে। তবে ভালো ফলের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতি বছরই ভিড় করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সহপাঠীদের জড়িয়ে ধরে আনন্দ প্রকাশের সেই চেনা দৃশ্য এবার অনেকটাই অনুপস্থিত। ফল বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে রাজশাহীর নামকরা কলেজগুলোতেও। পিবর্যয়ের মাঝেও নিজেদের সাফল্য ধরে রেখেছে রাজশাহী সরকারি কলেজ। এই কলেজে এবার পাসের হার ৯৯ দশমিক ৫ ভাগ। তবে এই কলেজের পরীক্ষার্থীরা ফলাফল দেখতে কলেজে আসেনি।
অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এসেছিলেন কলেজে শিক্ষকদের সঙ্গে। যারা এসেছিলেন তাদের মধ্যেও তেমন উচ্ছাস চোখে পড়েনি। নিজে ভালো ফল করলেও সহপাঠির ফল বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে তাদের ওপর।
আবার অনেক শিক্ষার্থীই বললেন, তারা জিপিএ-৫ পেলেও যতটা নাম্বার প্রত্যাশা করেছিলেন সেটা পাননি।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন বলেন, ফলাফলে সংখ্যার চেয়ে শিক্ষার গুণগত মানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যথাযথ মূল্যায়ন পদ্ধতি শিক্ষার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে । একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।
তিনি বলেন, আগে কী হয়েছে সেকথা বলবো না। তবে এখন শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার খাতায় যেভাবে লিখেছেন সেভাবেই শিক্ষকরা নাম্বার দিয়েছেন। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খারাপ ফলাফল করেছে তাদেরকে বোর্ডের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সতর্ক করা হবে।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের দেয়া তথ্যানুযায়ী, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের আওতায় বিভাগের আট জেলায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩৬ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৬১ হাজার ৮৯৪ জন শিক্ষার্থী পাস করেছেন। এবার শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ৯টি কলেজের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে মোট ৭৪৩ কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল ২০৮টি। এবছরও রাজশাহী বোর্ডে সবদিক দিয়ে ভালো ফল করেছে মেয়েরা। রাজশাহী বোর্ডে মোট ৬৫ হাজার ৯২৮ ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৫৩ দশমিক ৩ ভাগ ছাত্রী। মোট ৭১ হাজার ৪২৮জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩৭ দশমিক ৭১ ভাগ। জিপিএ -৫ প্রাপ্তীদের মধ্যে মেয়েরা এগিয়ে। রাজশাহী বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৫২০ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ২ হাজার ৫৫৫ আর ছাত্র ১ হাজার ৯৬৫ জন। ৩৯ কলেজের কেউ পাস করেনি
গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারে শতভাগ ফেল করা কলেজের সংখ্যা বেড়েছে। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে গত বছর শতভাগ ফেল করা কলেজ ছিল ৩৫টি। ২০২৪ সালে ছিল ১২, ২০২৩ সালে ৪, ২০২২ সালে এমন কলেজ ছিল ৯টি, ২০২১ সালে শতভাগ ফেল করা কোনো কলেজই ছিল না।
এবছর রাজশাহী বোর্ডে ৯টি কলেজের সকল শিক্ষার্থী পাস করেছে। এই সংখ্যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্ব নিম্ন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১৮টি, ২০২৪ সালে ছিলো ৩৫, ২০২৩ সালে ছিল ৩৭, ২০২২ সালে এই তালিকায় ছিল ৩১ কলেজ। ২০২১ সালে রাজশাহী বোর্ডে শতভাগ পাস করা কলেজের সংখ্যা ছিল ১৬২টি। এবছর শতভাগ পাস করা কলেজের মধ্যে রয়েছে বগুড়ার বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে এ বছর ৮০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তারা সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৭৬, জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের ৫২, পাবনা ক্যাডেট কলেজের ৪৮, রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের ৪৬, স্কয়ার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৩, সিংড়ার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১২, রাজশাহীর দুর্গাপুরের হরিরামপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সিরাজগঞ্জের হযরত শাহ কামাল কলেজের একজন করে পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। ফলে এই কলেজগুলো থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।