বরিশালে এইচএসসি পাসের হার নেমেছে ৪৪.৮৪ শতাংশে

বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলের পাসের হার ২০২৪ সালের ৮১ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের ৬২.৫৭ শতাংশ থেকে আশঙ্কাজনকভাবে কমে এবার মাত্র ৪৪.৮৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

একই সঙ্গে বিগত ২০২৪ সালে ৪ হাজার ১৬৭ জন ও ২০২৫ সালে ১ হাজার ৬৭৪ জন জিপিএ-৫ পেলেও, ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৯৫০ জনে। রেজাল্টের এই ভরাডুবির মধ্যেই বোর্ডের আওতাধীন ১১টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই এবার পাস করতে পারেনি।

তবে সামগ্রিক পাসের হার ও মেধার তালিকায় ছেলেদের পেছনে ফেলে নিজেদের নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রেখেছে নারী শিক্ষার্থীরা।  

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সবাল ১১টায় পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শরীফ মোর্শেদ রেজা।

ফলাফল ঘোষণা শেষে তিনি বলেন, ‘বিগত দিনের থেকে এই ফলাফলের পার্সেন্টেজ অনেক কম। গত বছরের তুলনায় এটা অনেক কম।

শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বোর্ডের অধীনে বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলা থেকে মোট ৬০ হাজার ৬৫২ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ছিল ৫৭ হাজার ৯১২ জন। মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫ হাজার ৯৭০ জন,এর মাধ্যমে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। পরীক্ষা চলাকালীন অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে মোট ১৪ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।  

বিগত তিন বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা গেছে, বরিশাল বোর্ডে ধারাবাহিক পাসের হার ও জিপিএ-৫ অর্জনের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।  পাসের হারে ধারাবাহিক পতন: ২০২৪ সালে বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা একলাফে কমে দাঁড়ায় ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশে। আর চলতি ২০২৬ সালে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে পাসের হার তলানিতে এসে ঠেকেছে ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বিগত দুই বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে প্রায় ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ।

২০২৪ সালে বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪ হাজার ১৬৭ শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১,৬৭৪ জনে। আর চলতি বছর জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা নেমে এসেছে ১,০০০-এর নিচে, মাত্র ৯৫০ জনে।  

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সূচকই ছাত্রীদের দখলে। পাসের হারে ছেলেদের ৩৫ দশমিক ৩৮ শতাংশের বিপরীতে ছাত্রীরা ৫২ দশমিক ৯৭ শতাংশ অর্জন করেছে। এ বছর জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৯৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬০৭ ছাত্রী ও ৩৪৩ ছাত্র।

পাসের হারে অন্যান্যবারের মতো এবারও এগিয়ে রয়েছে বিজ্ঞান বিভাগ।

বিজ্ঞান বিভাগ: ১১ হাজার ৯৩৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬ হাজার ৭৭৫ জন, পাসের হার ৫৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ (২০২৪ সালে ছিল ৯২ দশমিক ৫১ শতাংশ ও ২০২৫ সালে ছিল ৭১দশমিক ৫৯ শতাংশ)। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৩৫ জন।

মানবিক বিভাগ: ৪০ হাজার ৪৮৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬ হাজার ৯৮৩ জন পাস করেছে। পাসের হার ৪১ দশমিক ৯৫ শতাংশ (২০২৪ সালে ছিল ৮০ দশমিক ৬২শতাংশ ও ২০২৫ সালে ছিল ৬০ দশমিক ২১ শতাংশ)। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৬১ জন।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ: ৫ হাজার ৪৯১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২ হাজার ২১২ জন, পাসের হার ৪০ দশমিক ২৮ শতাংশ (২০২৪ সালে ছিল ৭৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ ও ২০২৫ সালে ছিল ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ)। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৪ জন।

বরিশাল বোর্ডের আওতাধীন ছয় জেলার মধ্যে ৫১ দশমিক ৫৫ শতাংশ পাসের হার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে পিরোজপুর জেলা। এরপর বরিশাল জেলায় পাসের হার ৪৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ, বরগুনায় ৪৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ভোলার পাসের হার ৩৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ, পটুয়াখালীতে ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৩৭ দশমিক ০৯ শতাংশ পাসের হার নিয়ে সবার নিচে অবস্থান করছে ঝালকাঠি জেলা।  

বিগত ২০২৪ সালে বরিশাল বোর্ডে শতভাগ ফেল করা (শূন্য শতাংশ পাস) কোনো কলেজ ছিল না। তবে ২০২৫ সালে ১২টি এবং চলতি ২০২৬ সালে মোট ১১টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।