ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

নীলফামারীতে দাদন ব্যবসায়ীর গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের রিপন মিয়া(৪৮) নামে এক দাদন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে, উচ্চহারে সুদ আদায়, মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে নীলফামারী প্রেসক্লাবের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের নামে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান ভুক্তভোগীরা। 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী মো. রশিদুল ইসলাম, মো. গাউসুল আজম মিঠু, মো. আফজালুল হক, সাইফুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি পশ্চিমপাড়া গ্রামের আবুজার রহমানের ছেলে রিপন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে পড়া সাধারণ মানুষের কাছে টাকা ধার দিয়ে পরবর্তীতে উচ্চহারে সুদ ও আসল টাকা আদায় করে আসছেন। এজন্য রিপন ফাঁকা চেক ও ফাঁকা স্ট্যামে স্বাক্ষর নিয়ে টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও মানসিক-শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও করেন তাঁরা।

ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, রিপন মিয়া নিজে, তাঁর ভাই, ভগ্নিপতি, শ্যালক, শ্যালিকা, শ্যালকের ছেলে ও ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ ও নীলফামারীর আদালতে প্রায় শতাধিক মামলা করেছেন। এর মধ্যে আরজি মামলাসহ ৪৫টি মামলার নথিপত্র তাঁরা সংগ্রহ করেছেন। বাকি মামলাগুলোর তথ্য ও নথি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগী এমদাদুল ইসলাম দাদন রিপনের নিকট ১০ হাজার টাকা সুদের উপর নেয়। সেই ১০ হাজার টাকা পরিশোধে সুদ বাবদ ৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এজন্য এমদাদুলের শেষ সম্ভল বাড়ির ভিটা বিক্রি করতে হয়েছে। বর্তমানে এমদাদুল তিস্তা ক্যানেলের বাধে কুড়ে ঘর বানিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন।

ভুক্তভোগী কাশেম বলেন, আমি দেড় লাখ টাকা রিপনের কাছে নেই। এ জন্য ফাঁকা চেক ও স্ট্যামে স্বাক্ষর দিতে হয় রিপনকে। তাকে সুদ সহ সারে তিন লাখ টাকা পরিশোধ করার পর সে আমাকে চেক ও স্ট্যাম্প ফেরত না দিয়ে উল্টো ১০ লাখ টাকা দাবি করে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

ভুক্তভোগী সফিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমি রিপনের নিকট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা সুদের উপর নেই। সুদসহ ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করার পরও আমার নামে ১০ লাখ টাকার মামলা দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দাদন ব্যবসায়ী রিপন মিয়ার বন্ধু ঠিকাদার দুলু অভিযোগ করে বলেন, ৫০ হাজার টাকা নিতে গিয়ে রিপনকে খেসারত দিতে হয় আমাকে একটা প্রাইভেট কার। এরপরেও সে আদালতে আমার বিরুদ্ধে ৭ লাখ টাকা দাবি করে মামলা করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় অভিযুক্ত মো. রিপন মিয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের কিশোরগঞ্জ উপজেলা পর্যায়ের একজন প্রভাশালী নেতা। রাজনৈতিক মামলায় তিনি আট মাস কারাভোগ করার পর জামিনে বের হয়ে প্রভাব বিস্তার করে তার নিজস্ব বলয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরী করে দেদারছে দাদন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এই দাদন ব্যবসার কারণে কিশোরগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকার বহু মানুষ আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়েছে ও হচ্ছে। অনেকে জমি, বাড়ি ও বসতভিটা হারিয়েছেন। এমনকি পারিবারিক কলহের জেরে অনেকের সংসার ভেঙেছে এবং নির্যাতন ও হয়রানির কারণে কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। রিপন মিয়ার দাদনের খপ্পরে পরে টাকা পরিশোধের পরেও ৬০ লাখটা পরিশোধের চাপে চাঁদখানা বুড়িরহাট মাদ্রাসার সুপার আবু বক্কর সিদ্দিক শেষ পর্যন্ত মৃত্যু বরণ করেন। সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে জানানো হয় যে আবু বক্কর ১ লাখ টাকা নিয়েছিল রিপনের নিকট। সুদ সমেদ পরিশোধ করেছি ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তারপরেও রিপন মিয়া ৬০ লাখ টাকা দাবি করে মামলা করে। এখন আবু বক্করের পরিবার দিশেহারা।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাদন ব্যবসা ও হয়রানির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত মো. রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, দোষ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নামে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।