ব্যালন ডি'অর উদযাপনের রাতে পেনাল্টি মিস কেইনের, বায়ার্নের হোঁচট

আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাজুড়ে সোনালি আলোর ঝিলিক, বিশেষ ট্রফি প্রদক্ষিণ এবং স্টেডিয়ামে বাজতে থাকা ‘ল্যান্ড অব হোপ অ্যান্ড গ্লোরি’র সুর, সব মিলিয়ে আবহটি তৈরি হয়েছিল শুধুই হ্যারি কেইনের উদযাপনের জন্য। ব্যালন ডি’অর জয়ের পর বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে যখন প্রথম মাঠে নেমেছিলেন, তখন চারপাশের উৎসবমুখর পরিবেশ যেন স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিল রাতটি সম্পূর্ণ কেইনের। 

তবে পেনাল্টি মিস, একের পর এক শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসা এবং শেষ মুহূর্তে গোল হজম, সব মিলিয়ে রাতটি কেইনের হলেও ম্যাচটা কেইনের ছিল না। রোমাঞ্চকর ‘ডার ক্লাসিকার’-এ বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের কাছে ২-২ গোলে হোঁচট খায় বাভারিয়ান। 

গত সোমবার লন্ডনের জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ২৫ বছর পর প্রথম ইংলিশ এবং ৪৫ বছর পর প্রথম বায়ার্ন খেলোয়াড় হিসেবে ব্যালন ডি’অর উঁচিয়ে ধরেন কেইন। গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে অবিশ্বাস্য ৭৩ গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং লামিন ইয়ামালকে পেছনে ফেলে এই স্বীকৃতি পান তিনি। 

এরপর গতকাল শনিবার ডর্টমুন্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে স্ত্রী কেটি ও চার সন্তানকে নিয়ে মাঠে নামলে কেনকে ‘গার্ড অব অনার’ জানায় দুই দলের ফুটবলাররা। এ সময় গ্যালারিতে বায়ার্নের ভক্তদের উদ্দেশ্যে নিজের আবেগ প্রকাশ করে কেইন বলেন, ‘বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় হতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। আশা করি আমরা একসঙ্গে আরও অনেক শিরোপা জিতব।’ 

তবে ম্যাচ শুরু হতেই বায়ার্নের মাঠের দৃশ্যপট বদলাতে থাকে। প্রথমার্ধের ৩৮তম মিনিটে কনরাড লাইমারের গোলে বায়ার্ন এগিয়ে গেলেও বিরতির পর কেইনের জন্য অপেক্ষা করছিল দুর্ভাগ্য। ৫৬ মিনিটে প্রতিপক্ষের ফাউল থেকে পাওয়া পেনাল্টিতে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পান তিনি। তবে সেই শট গিয়ে আছড়ে পড়ে ডর্টমুন্ডের গোলপোস্টের ক্রসবারে।

কিছুক্ষণ পর ডর্টমুন্ডের সেরহু গুইরাসি গোল করে সমতা ফেরান। এর কিছুক্ষণ পর কেইনের বুদ্ধিদীপ্ত হেডার পাস থেকেই দায়ো উপামেকানো বায়ার্নকে আবারও লিড এনে দেন। মাঝে কেইন নিজে আরও একবার নিচু শটে বার কাঁপিয়ে গোলবঞ্চিত হন। শেষ পর্যন্ত ৮৯ মিনিটে ফ্যাবিও সিলভার গোলে ডর্টমুন্ড অবিশ্বাস্য সমতা ফেরায়। এতে লিগে ৮ ম্যাচে দুই দলের সমান পয়েন্ট দাঁড়াল ১৮। তবে গোল ব্যবধানে বেশ খানিকটা এগিয়ে শীর্ষে কেইনরাই। 

এদিকে নজুরি সমস্যাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বায়ার্ন শিবিরে। সার্জ নাব্রি ও মাইকেল ওলিসে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর তরুণ ইসমাইল সাইবারির ইনজুরি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ম্যাচ শেষে বায়ার্নের সহকারী কোচ অ্যারন ডাঙ্কস বলেন, ‘মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় অর্ধে দলের পারফরম্যান্সে আমরা খুবই সন্তুষ্ট। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় না পাওয়ায় আমরা চরম হতাশ। আমাদের কাছে জেতার পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল, কিন্তু আজ ভাগ্য স্রেফ আমাদের পক্ষে ছিল না।’