ব্যালন ডি’অরের ৭০ বছরের ইতিহাসে অন্যতম হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সাক্ষী হলো ২০২৬ সালের পুরস্কার। ব্যালন ডি'অর বিজয়ী ঘোষণার চার দিন বাদে প্রকাশিত পয়েন্ট তালিকা অনুযায়ী মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে ২০২৬ সালের বর্ষসেরা ফুটবলারের মুকুট (ব্যালন ডি’অর) নিজের মাথায় পরেছেন ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন।
বায়ার্ন মিউনিখের এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড মোট ১,০৫৫ পয়েন্ট পেয়ে বিজয়ী হন, যেখানে প্রথম স্থান অধিকারী হিসেবে তিনি ভোট পেয়েছেন ৪০টি। অন্যদিকে ১,০২৭ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হওয়া এমবাপ্পে প্রথম পছন্দের ভোট পান ২৩টি। গেল মৌসুমে ক্লাব ও দেশের হয়ে কেইনের করা ৭৩টি গোল এবং বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের তৃতীয় হওয়ার পেছনে তাঁর ছয় গোল বড় ভূমিকা রেখেছে। বিপরীতে ফরাসি তারকা এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪৪২ গোল এবং বিশ্বকাপে ১০ গোল করে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়া সত্ত্বেও কেইনের কাছে অল্পের জন্য হেরে যান।
ব্যালন ডি’অরের পয়েন্ট ব্যবধানের বিস্তারিত প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, এটি ছিল পুরস্কারটির ৭০ বছরের ইতিহাসের চতুর্থ নিকটতম ভোট এবং ২০১৯ সালে লিওনেল মেসি কর্তৃক ভার্জিল ফন ডাইককে ৭ পয়েন্টে হারানোর পর সবচেয়ে কম ব্যবধানের লড়াই।
এই আসরে ১০০ জন আন্তর্জাতিক সাংবাদিকের জুরি পোর্টালে ভোট প্রদানের নিয়ম অনুযায়ী প্রথম স্থানের জন্য ১৫, দ্বিতীয়ের জন্য ১২, তৃতীয়ের জন্য ১০ এবং পরবর্তী শীর্ষ ১০-এর জন্য ক্রমানুসারে ৮, ৭, ৫, ৪, ৩, ২ ও ১ পয়েন্ট বরাদ্দ ছিল।
পুরুষ বিভাগে এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ১৯ বছর বয়সী স্প্যানিশ ও বার্সেলোনা সেনসেশন লামিন ইয়ামাল। বার্সাকে লা লিগা জেতানো এবং স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে প্রধান ভূমিকা রেখে তিনি ৮৮১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন এবং ১৩টি প্রথম-স্থান প্রাপ্ত ভোট পান (যিনি এমবাপ্পের চেয়ে ১৪৬ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিলেন)। এছাড়া স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের আরেক সতীর্থ রোদ্রি ১০টি প্রথম-স্থান প্রাপ্ত ভোটসহ ৭২৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থান লাভ করেন।
অন্যদিকে, এই লড়াইয়ের বাইরে থাকা সাবেক ব্যালন ডি’অর জয়ী লিওনেল মেসির পয়েন্ট কত ছিল, তা নিয়েও ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই। আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা ইন্টার মিয়ামির হয়ে চমৎকার মৌসুম কাটিয়ে ৬১২ পয়েন্ট নিয়ে ভোটাভুটিতে ৫ম স্থান অর্জন করেছেন।
পুরুষ বিভাগের পাশাপাশি নারী ব্যালন ডি’অরের ফলাফলও বেশ রোমাঞ্চকর ছিল। বার্সেলোনার সাবেক সতীর্থ ইওয়া পাজরকে ৮৬ পয়েন্টের ব্যবধানে পেছনে ফেলে ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো নারী ব্যালন ডি’অর নিজের করে নেন আলেক্সিয়া পুতেয়াস। বর্তমানে লন্ডন সিটি লায়োনেসে খেলা এই তারকা মিডফিল্ডার ৫০ জন বিচারক সাংবাদিকের মধ্যে ২৮ জনের প্রথম পছন্দের ভোট পেয়ে মোট ৬১৮ পয়েন্ট অর্জন করেন (যেখানে দুইয়ে থাকা তার বার্সা সতীর্থ ইওয়া পাজরের পয়েন্ট ছিল ৫৩২)। আর ম্যানচেস্টার সিটির খাদিজা শ’ ৩৪৬ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে থেকে আসর শেষ করেন।
এক নজরে দেখে নিন ২০২৬ পুরুষ ব্যালন ডি’অরের সম্পূর্ণ ৩০ জনের চূড়ান্ত র্যাঙ্কিং ও পয়েন্ট তালিকা:
১. হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড, বায়ার্ন মিউনিখ) — ১,০৫৫ পয়েন্ট
২. কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স, রিয়াল মাদ্রিদ) — ১,০২৭ পয়েন্ট
৩. লামিন ইয়ামাল (স্পেন, বার্সেলোনা) — ৮৮১ পয়েন্ট
৪. রদ্রি (স্পেন, ম্যানচেস্টার সিটি/বার্সেলোনা) — ৭২৬ পয়েন্ট
৫. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা, ইন্টার মায়ামি) — ৬১২ পয়েন্ট
৬. কাভিচা কাভারাতসখেলিয়া (জর্জিয়া, পিএসজি) — ৫৪১ পয়েন্ট
৭. উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স, পিএসজি) — ৪১৮ পয়েন্ট
৮. আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে, ম্যানচেস্টার সিটি) — ৩৭৮ পয়েন্ট
৯. মাইকেল ওলিসে (ফ্রান্স, বায়ার্ন মিউনিখ) — ২৯৬ পয়েন্ট
১০. ফাবিয়ান রুইজ (স্পেন, পিএসজি) — ২০১ পয়েন্ট
১১. জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড, রিয়াল মাদ্রিদ) — ১০৭ পয়েন্ট
১২. পাউ কুবার্সি (স্পেন, বার্সেলোনা) — ১০১ পয়েন্ট
১৩. আশরাফ হাকিমি (মরক্কো, পিএসজি) — ৬৫ পয়েন্ট
১৪. ভিতিনহা (পর্তুগাল, পিএসজি) — ৫৯ পয়েন্ট
১৫. ডেকলান রাইস (ইংল্যান্ড, আর্সেনাল) — ৫৭ পয়েন্ট
১৬. ফেররান তোরেস (স্পেন, বার্সেলোনা/পিএসজি) — ৪৪ পয়েন্ট
১৭. ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (ব্রাজিল, রিয়াল মাদ্রিদ) — ২৬ পয়েন্ট
১৮. মার্ক কুকুরেয়া (স্পেন, রিয়াল মাদ্রিদ) — ১৬ পয়েন্ট
১৯. জোয়াও নেভেস (পর্তুগাল, পিএসজি) — ১৫ পয়েন্ট
২০. উইলিয়ান পাচো (ইকুয়েডর, পিএসজি) — ১২ পয়েন্ট
২১. গাব্রিয়েল মাগালহায়েস (ব্রাজিল, আর্সেনাল) — ১১ পয়েন্ট
২২. লাউতারো মার্তিনেজ (আর্জেন্টিনা, ইন্টার মিলান) — ১১ পয়েন্ট
২৩. নুনো মেন্দেস (পর্তুগাল, পিএসজি) — ৮ পয়েন্ট
২৪. লুইস দিয়াজ (কলম্বিয়া, বায়ার্ন মিউনিখ) — ৮ পয়েন্ট
২৫. মারকুইনহোস (ব্রাজিল, পিএসজি) — ৭ পয়েন্ট
২৬. দায়োত উপামেকানো (ফ্রান্স, বায়ার্ন মিউনিখ) — ৫ পয়েন্ট
২৭. ব্রুনো ফার্নান্দেজ (পর্তুগাল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড) — ৫ পয়েন্ট
২৮. হুলিও কিনোনিয়োস (মেক্সিকো, আল-কাদসিয়াহ) — ৪ পয়েন্ট
২৯. সাদিও মানে (সেনেগাল, আল-নাসর) — ২ পয়েন্ট
৩০. উইলিয়াম সালিবা (ফ্রান্স, আর্সেনাল) — ২ পয়েন্ট
হাকিমির হ্যাটট্রিকে পিএসজির গোল উৎসব, এনরিকের ইতিহাস