যুবকরা সমাজের বোঝা নয়, সম্পদ: ইউএনও জাহাঙ্গীর

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শেরপুরের নকলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা, যুব ঋণের চেক বিতরণ এবং গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হয়ে পৌর এলাকার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হামিদুর রহমান, আ. হক তালুকদার চানমিয়া ও মহিউদ্দিন মুক্তার প্রমুখ।

সভায় ওসি রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হতে হবে। চাকরি না খুঁজে অন্যদের চাকরি দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। সরকার যুবক-যুবতীদের স্বাবলম্বী করতে নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে হবে। 

ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সবার আগে প্রয়োজন দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলা। দেশে চাকরির বাজার সীমিত। তাই শুধু চাকরির প্রত্যাশা না করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে উদ্যোক্তা হতে হবে এবং নিজের প্রতিষ্ঠানে অন্য বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

স্বাগত বক্তব্যে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হামিদুর রহমান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও ঋণ কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে যুবসমাজ পরিবারের বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হবে।

আলোচনা সভা শেষে উপজেলার সাতজন উদ্যোক্তার মাঝে মোট পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টাকার ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তর ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যুব প্রশিক্ষণার্থী, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়া উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।