বগুড়ার করতোয়া, গজারিয়া ও ইছামতী নদী পুনঃখননের জন্য ১ হাজার ৯৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে। চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৯৪ কিলোমিটার নদী এবং ৬ কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বগুড়ায় করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নদীতীর প্রতিরক্ষা ও পুনঃখননকাজের জন্য নির্ধারিত এসপি ঘাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগের আওতায় ছয় মাসের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ১০১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীগুলোর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরে আসবে এবং নান্দনিকতা বাড়বে। পাশাপাশি বগুড়া শহরের সৌন্দর্যবর্ধন, মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। নদীর দুই পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বগুড়ার মানুষ নতুন এক শহর দেখতে পাবেন।
নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের বিষয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের কোন নদী থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে আর কোন নদী থেকে যাবে না, তা নির্ধারণে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের তৈরি করা তালিকা জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, যেসব নদী থেকে বালু উত্তোলন করলে নদীভাঙন কিংবা সরকারি অবকাঠামোর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, সেসব নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, বালু উত্তোলনে ক্ষতির আশঙ্কা না থাকলে নিয়ম মেনে তা উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।
এসময় বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন, জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির, জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।