কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এক নজিরবিহীন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১২টি কলেজের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মোট ২ হাজার ৮৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হতে পেরেছেন মাত্র ১ হাজার ১৩৮ জন। ফলে পাসের হার গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪০,১০%। পরীক্ষার ফলাফলে এমন আশঙ্কাজনক ধসে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, পাসের হারের দিক থেকে উপজেলার সেরা সাফল্য দেখিয়েছে অধ্যাপক আবদুল মজিদ কলেজ। এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৬৯৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫০৬ জন পাস করেছেন, যার পাসের হার ৭৩.০২%। অন্যদিকে সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি বাইড়া মো. আরিফ স্কুল অ্যান্ড কলেজে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ৫ জন, অর্থাৎ পাসের হার ১১.১১%।
উপজেলার বাকি ১০টি কলেজের ফলাফলেও হতাশার চিত্র ফুটে উঠেছে। জাহাপুর কমলা কান্ত একাডেমি ও কলেজ ১৩৮ জনের মধ্যে ৬৩ জন উত্তীর্ণ, চাঁদ মিয়া মোল্লা ডিগ্রি কলেজ ১১৩ জনের মধ্যে ৫০ জন উত্তীর্ণ, বেগম সুফিয়া শওকত কলেজ ৯৮ জনের মধ্যে ৩৪ জন উত্তীর্ণ, কাজী নোমান আহমেদ ডিগ্রি কলেজ ৪৮৮ জনের মধ্যে ১৬৩ জন উত্তীণ, কোড়েরপাড় আদর্শ ডিগ্রি কলেজ ১৪৩ জনের মধ্যে ৪৪ জন উত্তীর্ণ, শ্রীকাইল কলেজ ২১২ জনের মধ্যে ৫৮ জন উত্তীর্ণ, বাঁশকাইট ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ডিগ্রি কলেজ ১০৪ জনের মধ্যে ২৮ জন উত্তীর্ণ, সামছুল হক কলেজ ১২৬ জনের মধ্যে ২৯ জন উত্তীর্ণ, ফরিদ উদ্দিন সরকার ডিগ্রি কলেজ ২৬৮ জনের মধ্যে ৫৪ জন উত্তীর্ণ, কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম ডিগ্রি কলেজ ৪১০ জনের মধ্যে ১০৪ জন উত্তীর্ণ। এর মধ্যে ৫টি কলেজ থেকে সর্বসাকুল্যে ১৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।
স্থানীয় অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মতে, শিক্ষার এই অবনতি একদিনে ঘটেনি, বরং দীর্ঘদিনের নানা সমস্যারই প্রতিফলন এটি। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিতি ও পাঠদানে অমনোযোগিতা, স্মার্টফোন ও আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারে আসক্তি এবং কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পর্যাপ্ত বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সংকট এসব কারণ সম্মিলিতভাবে ফলাফলের এই বিপর্যয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মতে, শিক্ষার মান ফেরাতে অবিলম্বে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি অতিরিক্ত পাঠদান, ধারাবাহিক বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা এবং অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত মতবিনিময় ও পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদার করার মাধ্যমে একটি কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
সার্বিক বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম তালুকদার জানান, এইচএসসি পরীক্ষার এ নিম্নমুখী ফলাফল অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। আমরা খুব দ্রুতই সব কলেজের শিক্ষকদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা সভার আয়োজন করব এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করব।