বরগুনার তালতলী উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের চাউলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিকনিকের নামে রাতভর নাচ-গানের আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছে ফুটবল আয়োজন কমিটির বিরুদ্ধে। প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয়ের সীমানা টপকে ভেতরে প্রবেশ করে একটি কক্ষের তালা ভেঙে এ আয়োজন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (অক্টোবর) বিকেলে চাউলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলের খেলা শেষে স্কুলের পাশেই রাতে পিকনিকের আয়োজন করেন ফুটবল আয়োজন কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের সীমানা টপকে ভেতরে প্রবেশ করে প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ছাড়াই একটি কক্ষের তালা ভেঙে সেখানে প্রবেশ করা হয়। পরে আমতলী থেকে নারী ভাড়া করে এনে নাচ-গানের আসর বসানো হয়।
পরদিন শনিবার ও রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দুজন নারী নৃত্য পরিবেশন করছেন। তাঁদের সঙ্গে কয়েকজন পুরুষকেও নাচতে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজনকে কেন্দ্র করে কোনোভাবেই একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা যায় না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে কক্ষের তালা ভাঙা এবং রাতের আয়োজনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ফুটবল আয়োজন কমিটির সদস্য ও নারীদের সঙ্গে নাচতে থাকা মোয়াজ্জেম তালুকদার (আলাল) জানান, ফুটবল খেলা শেষে পিকনিকের আয়োজন করা হয়। রাতে বৃষ্টি হলে স্কুলের ভেতরে যাওয়া হয়। ওখানে দুই-একটি নাচ হয়েছে এবং পরে চলে আসা হয়। নাচের সময় ওখানের লোকজন আমাকে টেনে তুলছে এবং আমাকে ভিডিওতে দেখা গেছে। কে বা কারা ভিডিও করেছে, আমি জানি না। তিনি আরও জানান, মেয়ে দুটি এই এলাকার নয়। আমতলী থেকে নিয়ে আসা হয়েছে।
চাউলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিনয় কুমার ঢালি বলেন, শুক্রবার তারা এ অনুষ্ঠান করেছেন। আমি আজ জানতে পেরেছি। আমাকে না জানিয়ে কে বা কারা এগুলো করেছে, তা জানি না। আমাদের স্কুলের দেয়াল টপকে ও একটি কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়।
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, সীমানা টপকে ভেতরে প্রবেশ করে একটি কক্ষের তালা ভেঙে এ আয়োজন করা মোটেও ঠিক হয়নি। আমরা প্রধান শিক্ষককে তলব করেছি। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, যে ভিডিওটি দেখেছি, সেটি স্কুলের ভেতরের। এমন অসামাজিক নাচ-গান করা মোটেই ঠিক হয়নি।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন আয়োজন করা ঠিক হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।