সিসি ক্যামেরা অচল, নিরাপত্তাহীন বেলকুচি

তাঁতশিল্পসমৃদ্ধ ও বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে সিসি ক্যামেরা অচল পড়ে রয়েছে। এতে শহরের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের আশঙ্কায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

জানা যায়, ২০২২ সালে বেলকুচি পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় সীমিত পরিসরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। তবে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে পৌর এলাকার কোনো সিসি ক্যামেরাই সচল নেই। ফলে অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধীদের শনাক্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

বেলকুচি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এখানে রয়েছে একাধিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং ইভ টিজিং প্রতিরোধে সিসি ক্যামেরা স্থাপন জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি পৌর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বেলকুচি থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করলেও নজরদারির ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধীদের শনাক্ত ও তাদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় ভ্যানচালক সবুর বলেন, ‘কাজ করতে করতে ক্লান্ত হলে পানি পান করার জন্য ভ্যান রেখে যেতে হয়। এ সময় অনেকের ভ্যান চুরি হয়ে যায়। চোর ও ছিনতাইকারীর ভয়ে ভ্যান রেখে দূরে যেতেও সাহস পান না তারা। পৌর এলাকার সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা থাকলে নিরাপদে চলাচল করা সম্ভব হবে।’

মুকুন্দাগাতি বাজার বণিক সমিতির পরিচালক মুকুল মোল্লা বলেন, ‘বেলকুচি একটি বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় এখানে অপরাধের প্রবণতাও বেশি। ব্যবসায়ীরা নিয়মিত পৌরসভাকে কর দেন। চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই বন্ধ এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা জরুরি। বর্তমানে ক্যামেরা অচল থাকায় পুরো পৌর এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।’

সোহাগপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে সিসি ক্যামেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগে বেলকুচি পৌর এলাকায় সিসি ক্যামেরা সচল থাকায় অপরাধীরা অপরাধ করতে ভয় পেত। তার বিদ্যালয়ের ছাত্রীরাও নিরাপদে চলাচল করতে পারত। কিন্তু গত দুই বছর ধরে ক্যামেরা বন্ধ থাকায় অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে এবং মেয়েদের চলাচলে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত সিসি ক্যামেরাগুলো সচল করার জন্য তিনি পৌর কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

বেলকুচি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অপরাধের প্রবণতা কমাতে পর্যায়ক্রমে পৌরসভার সব এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা জরুরি। কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর দ্রুত সিসি ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে অপরাধীকে শনাক্ত করা গেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।’

এ বিষয়ে বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান বলেন, ‘পৌর এলাকায় সিসি ক্যামেরা থাকলে অপরাধীদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং অপরাধের প্রবণতা কমবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দ্রুত সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ইতিমধ্যে পৌর প্রশাসককে তালিকা দেওয়া হয়েছে।’

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক আফরিন জাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পৌর কমিটির সর্বশেষ সভায় অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আপাতত সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য বেলকুচি থানা-পুলিশের কাছ থেকে অপরাধপ্রবণ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর তালিকাও পাওয়া গেছে। তবে আপাতত বাজেট না থাকায় পৌরসভার সব এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না।’

ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত বেলকুচি পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আধুনিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও অচল ক্যামেরাগুলো সচল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।