‘নো ভাইরাল, নো স্পিড’

শিক্ষার্থীদের ধীর সাংবাদিকতার উৎসব

দৃকপাঠ ভবনে চলছে শিক্ষার্থীদের ধীর সাংবাদিকতার উৎসব শীর্ষক প্রদর্শনী। সাংবাদিকতায় গভীর অনুসন্ধান, তথ্য যাচাই ও দায়িত্বশীল সংবাদচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রদর্শনী আয়োজন করেছে দৃক ও কিউরেশন করেছেন এএসএম রেজাউর রহমান। এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন দেশের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ত্রিশজন শিক্ষার্থী।

বেশিসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানোর তাগিদে গণমাধ্যম ঝুঁকে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ার ‘ভাইরাল’ প্রবণতায়। প্রচলিত গণমাধ্যমের এই প্রবণতাকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার লক্ষ্যে দৃক দেশের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ শুরু করে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) ও সেন্ট্রাল উইমেনস ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় স্লো জার্নালিজম বিষয়ক কর্মশালা। কর্মশালা শেষে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রস্তাবিত বিষয় উপস্থাপন করেন। চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত দশজনের পরিবেশনা নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই বিশেষ প্রদর্শনী। এ ধরনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে গণমাধ্যম ক্লিক বেইট জার্নালিজম থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকতার নিজস্ব পরিসরে ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক ড. দীন এম. সুমন রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রকৃত সাংবাদিকতা একটু ধীরগতির। কারণ প্রকৃত সংবাদ অনুসন্ধানমূলক, গবেষণাপ্রসূত, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যযুক্ত ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট হয়ে থাকে। স্লো জার্নালিজম দর্শন অনুশীলনের ফলে শিক্ষার্থীরা জার্নালিজমকে তার নিজস্ব পরিসরে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।’ প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনা দেখে দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা যখন মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে আসবেন, তাদের কাজের মধ্য দিয়ে যেন ‘স্লো জার্নালিজম’-এর দর্শন প্রতিফলিত হয়।

তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সাংবাদিকতা শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে দৃকের সঙ্গে এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানান। প্রদর্শনীটি ৭ নভেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। দৃকপাঠ ভবনের লেভেল-২ ও লেভেল-৮ এ প্রদর্শনীটি প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।