অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার ৪৫তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এক মজার আর কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন ব্রিটেনের রাজা চার্লস এবং রানি ক্যামিলা। অনুষ্ঠানের শুভ সূচনার মুহূর্তেই আকাশ ভেঙে হঠাৎ শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। এতে মুহূর্তের মধ্যে ভিজে একাকার হয়ে যান রাজদম্পতি। সূত্র হ্যালো ম্যাগাজিন।
ঘটনাটি ঘটে দেশটির স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত বার্ষিক স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ চলাকালে। রাজদম্পতি পৌঁছানোর পর পরই নামা এই অতিবৃষ্টির মুখে রানি ক্যামিলা খুব দ্রুত নিজেকে সামলে নেন। সহায়তাকারীরা তার হাতে একটি স্বচ্ছ গম্বুজাকৃতির ছাতা তুলে দিলে তিনি ইউনিফর্ম পরা এক কর্মকর্তার সঙ্গে সঙ্গে রেড কার্পেট বেদি থেকে সরে গিয়ে পাশের রাজকীয় শেড বা আশ্রয়স্থলে চলে যান।
তবে বিপত্তি বাঁধে রাজাকে নিয়ে! রানির জন্য ছাতার ব্যবস্থা হলেও রাজার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ছাতাই ছিল না। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতেই চার্লস হাত উঁচিয়ে চারপাশে তাকাতে থাকেন এবং বারবার সফরসঙ্গী ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বিস্ময় প্রকাশ করে বলতে থাকেন, ‘আমার ছাতা কোথায়?’ রাজাকে এভাবে খোলা আকাশের নিচে ভিজে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে ছাতা খুঁজতে দেখে উপস্থিত সফরসঙ্গী ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও বেশ অবাক হন।
তবে পুরো ঘটনাটিতে বিরক্ত না হয়ে রসিকতার সঙ্গেই পরিস্থিতি সামাল দেন রাজদম্পতি। পরবর্তীতে সহায়তাকারীরা রাজার জন্য একটি ছাতা খুঁজে এনে দিলে তিনি সেটি মাথায় দিয়ে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। ভিজতে ভিজতেই সহাস্যে রাজা চার্লস রসিকতা করে বলেন, ‘যে হারে ভিজলাম, আমার প্যান্টে তো শাক (ওয়াটারক্রেস) গজাতে শুরু করবে!’
বৃষ্টি কিছুটা কমলে খোলা বেদিতে রাজা ও রানি ফের একসঙ্গে দাঁড়িয়ে হাসাহাসিতে মেতে ওঠেন। ক্যামিলা ইশারায় তার এলোমেলো হওয়া ভেজা চুল দেখাচ্ছিলেন এবং চার্লস দেখান তার ভিজে যাওয়া স্যুট। সেদিন চার্লসের পরনে ছিল একটি বেইজ রঙের স্যুট আর রানি ক্যামিলার পরনে ছিল সোনা দিয়ে নকশা করা সাদা রঙের আন্না ভ্যালেনটাইন শিফন ড্রেস।
পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর অনুষ্ঠানটি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। রাজা চার্লস স্টেডিয়ামের পিচে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা সৈন্যদের লালগালিচার ওপর দিয়ে ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন। ছাতা মাথায় দিয়ে তিনি যখন ঘুরে আসছিলেন, তখন গ্যালারিতে থাকা দর্শকরা তাকে উল্লাসের সঙ্গে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। রাজাও হাত নেড়ে সেই অভিবাদনের জবাব দেন।
অনুষ্ঠানে রাজদম্পতি দেশের সংস্কৃতি, খেলাধুলা, শিক্ষা ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রাখা জাতীয় সম্মাননাপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন। কুচকাওয়াজ শেষ হওয়ার পর তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের চার বিখ্যাত কিংবদন্তি ক্রিকেটার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস, স্যার রিচি রিচার্ডসন, স্যার অ্যান্ডি রবার্টস এবং স্যার কার্টলি অ্যামব্রোসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডসের প্রতিকৃতি সংবলিত কক্ষটিতে ঢোকার ঠিক আগে রানি ক্যামিলা সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের দিকে তাকিয়ে ভেজা পোশাক ও এলোমেলো চুল দেখিয়ে হেসেই ফেলেন। কাঁধ ঝাঁকিয়ে মজা করে তিনি বলেন, ‘আমি আশা ছেড়েই দিয়েছি!’
রাজদম্পতির এই ক্যারিবীয় সফরটি তাদের শরৎকালীন সফর কর্মসূচির অংশ, যার মধ্যে বাহামা ও গায়ানা সফরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই সফরে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ছাড়াও রাজা চার্লস কমনওয়েলথের প্রধান হিসেবে সংস্থাটির সরকারপ্রধানদের বৈঠকে যোগ দেবেন। আগামী ৪ নভেম্বর এই সফর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।