বিশ্বে সাংবাদিক হত্যার ৮৬ শতাংশ ঘটনায় বিচার হয় না: ইউনেস্কো

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম

বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ৮৬ শতাংশ ঘটনায় বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি। অর্থাৎ সাংবাদিক হত্যার প্রতি সাতটি ঘটনার মধ্যে প্রায় ছয়টিরই বিচার হচ্ছে না। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বিশ্বে ১৮৯ জন সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিকতামূলক কাজে যুক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতা নিহত হয়েছেন।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচারহীনতা অবসানের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে ইউনেস্কোর প্রকাশিত তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।

এ বছর দিবসটির বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘হুমকির ধরন বদলাচ্ছে, বিচারহীনতা রয়ে যাচ্ছে’। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পরিবর্তিত হুমকি এবং এসব অপরাধের ক্ষেত্রে জবাবদিহির ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরতেই এ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের হত্যাকাণ্ডের ৬৭ শতাংশ ঘটেছে সশস্ত্র সংঘাত চলমান রয়েছে এমন দেশগুলোতে।

সংস্থাটি বলছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, হুমকির বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ এবং ঝুঁকিতে থাকা সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশেও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইউনেস্কো। জাতিসংঘের নির্বাচনী সহায়তা প্রকল্প ‘ব্যালট’-এর আওতায় দাতাদের সহায়তায় এবং বিভিন্ন বাস্তবায়নকারী অংশীদারের সঙ্গে যৌথভাবে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যালট প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী প্রায় তিন হাজার সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রশিক্ষণে সাংবাদিকদের নিরাপত্তাবিষয়ক একটি পূর্ণদিবসের বিশেষ মডিউল অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন নারী সাংবাদিক এবং ২৪ জন ফটোসাংবাদিকও রয়েছেন।

জাতীয় নির্বাচনের আগে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে সহায়তার জন্য ৬০টি সুরক্ষা ভেস্ট, চার হাজার সাংবাদিক সহায়িকা কার্ড এবং নির্বাচনবিষয়ক প্রতিবেদন তৈরির সাত হাজার ৫০০টি নির্দেশিকা বিতরণ করেছে ইউনেস্কো।

এ ছাড়া প্রশিক্ষণ ও সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ও গণমাধ্যমের মধ্যে যোগাযোগ এবং পুলিশ ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচনী পরিবেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ সাংবাদিকতা সম্মেলনে ৫০০ জন অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা জোরদারে করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।

পাশাপাশি তরুণদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে দৃশ্যভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ ও যাচাইয়ের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হামলা প্রতিরোধ, ঝুঁকিতে থাকা সাংবাদিকদের সুরক্ষা এবং এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউনেস্কো।

সংস্থাটির মতে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচারহীনতার অবসান ঘটানো ছাড়া স্বাধীন সাংবাদিকতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকার সুরক্ষিত রাখা সম্ভব নয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত