জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপে রাজি পুতিন

প্রায় ৫ বছর ধরে চলা ‘ইউক্রেন যুদ্ধ’ বন্ধে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আবুধাবিতে শান্তি আলোচনা আবারও শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতের অবসানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ফোন করলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন সেই ফোন ধরবেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। গত রবিবার ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ এই দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি অবশ্যই ফোন ধরবেন। পুতিন কখনো আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানাননি।’ পাশাপাশি রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনায় ইউরোপকেও যুক্ত করা উচিত বলে জানান তিনি। তার মতে, একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ইউরোপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দুই নেতার মধ্যে সরাসরি কোনো বৈঠক হয়নি। এমনকি তাদের মধ্যে ফোনালাপও হয়নি। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে দুই নেতার সরাসরি দেখা হয়েছিল। ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত নরম্যান্ডি ফরম্যাটের আলোচনায় তারা অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই জেলেনস্কি ও পুতিনের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের দাবি জানিয়ে আসছে কিয়েভ। এ জন্য গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার উদ্যোগও নিয়েছে ইউক্রেন। গত জুলাইয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পুতিনের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লেখেন। এতে ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে সরাসরি বৈঠকের আহ্বান জানান তিনি। তবে শুক্রবার কিয়েভ ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই নেতার সরাসরি বৈঠক এড়াতে ফোনালাপের প্রস্তাব দেওয়ার চেষ্টা করছে ক্রেমলিন। ইউক্রেনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা ইতিমধ্যে ফোনে এ ধরনের আলোচনার চেষ্টা করেছে।’

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, পুতিন ‘সবার সঙ্গে সংলাপে বসতে আগ্রহী’। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পেসকভ আরও বলেন, ‘এখনো কেউ ফোন করেনি।’ এর আগে পুতিন সরাসরি আলোচনায় বসার সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। তিনি জেলেনস্কিকে ‘অবৈধ নেতা’ বলে অভিহিত করেন। এ ছাড়া পুতিন দাবি করেছিলেন, আগে থেকে অনুমোদিত কোনো চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্যই কেবল তিনি জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন। পেসকভ আরও বলেন, শান্তি আলোচনার প্রথম ধাপ-রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয়ভাবে হওয়া উচিত।