স্বাস্থ্য খাতে গত ১৭ বছরে সবচেয়ে বেশি লুটপাট হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, গত ১৭ বছরে দেশের স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি লুটপাট হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়াই বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। আবার ওষুধ ও ভ্যাকসিনের সরবরাহও ছিল না। এমন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির মধ্যেই বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। এখন অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং দুপুরে মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মাদারীপুর সদর হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে কোনো অনিয়ম পাননি বললে তা অসত্য হবে। গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি লুটপাট হয়েছে। জনবল ছাড়া মেশিন কেনা হয়েছে, ফলে সেগুলো ব্যবহারের সুযোগ নেই। একইভাবে মেশিন কেনা হলেও ওষুধ ও ভ্যাকসিনের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়নি।

স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সফলতা এসেছে, তবে এখনো অনেক জায়গায় কাজ বাকি রয়েছে। এ জন্য আরও পরিশ্রম করতে হবে।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালে পরিদর্শনে বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালটিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি রয়েছে। অনেক কক্ষ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। কিছু কক্ষ সংস্কারের অপেক্ষায় থাকলেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে সেগুলো ঠিক করা হয়নি।

রোগীদের ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনো রোগীদের যথাযথ কাউন্সেলিং করা হচ্ছে না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হয়েছে। যেসব ক্ষেত্রে অনিয়ম পাওয়া গেছে, সেগুলোর বিষয়ে ঢাকায় ফিরে বিভাগীয় পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে সকালে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবা, জনবল ও ওষুধের সরবরাহ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পরিদর্শনকালে হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন তিনি। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় এবং পরবর্তী সময়ে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান।

স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট নিরসনে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ২৫ হাজার নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাঁচ হাজার চিকিৎসক ও আড়াই হাজার নার্স নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া আউটসোর্সিং প্রথা বাতিল করে স্থায়ী জনবল নিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিটি হেলথ সেন্টারে চিকিৎসক রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রতি তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ডিভিশন গঠন করা হবে। পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সঙ্গে একীভূত করে দ্বিতীয় শিফট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে রোগীদের খাবারের বরাদ্দ ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পাশাপাশি বিশেষ ডায়েটের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে।

কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় কয়েকজন চিকিৎসককে নির্ধারিত সময়ের পরে হাসপাতালে আসতে দেখা যায়। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী। এ ছাড়া হাসপাতালে দালাল চক্রের তৎপরতার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।