প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেন, ১১ দলের লংমার্চে জামায়াতের আমির বলেছিলেন, দাবি আদায় না হলে সবকিছু তছনছ করে দেওয়া হবে। জামায়াত আমিরের এই বক্তব্যের পরই গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ তছনছ শুরু করেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংস করার জন্য গার্মেন্টস শিল্পে আগুন দেওয়া হচ্ছে।
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে আওয়ামী অপতৎপরতার দায় জামায়াতের আমির এড়াতে পারেন না। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি অবশ্যই আমাদের সংহতি রয়েছে। এই শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে আওয়ামী সহিংসতা হচ্ছে, তার দায় জামায়াতের আমির এড়াতে পারেন না। তাঁরা যে দাবি নিয়ে লংমার্চ করছেন, সেই দাবি ইতিমধ্যে সরকার বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কালীগঞ্জ সরকারি নলডাঙ্গা ভূষণ স্কুল মাঠে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক ইসরাইল হোসেনের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আমার দেশ পত্রিকা ছেঁড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার দেশ পত্রিকা একসময় আমাদের পত্রিকা ছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হওয়ার পর জামায়াতকে ক্ষমতায় আনতে নানা ধরনের ন্যারেটিভ তাদের পত্রিকায় প্রকাশ করতে শুরু করে। আমার দেশ এখন জামায়াতের মুখপত্র। আমার দেশের যে হাউস, সেটিকে এখন মানুষ জামায়াতের প্রোপাগান্ডা হাউস বলছে।
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ভারতের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং এ-সংক্রান্ত তথ্য আমি সামনে হাজির করেছি। এ ছাড়া ওই বৈঠকের তথ্য মিথ্যা হলে আমার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার চ্যালেঞ্জ দিয়েছি। আমি একটি মিথ্যা ন্যারেটিভ ছিঁড়েছি। একটি অসত্যকে ছিঁড়েছি। আমার বিরুদ্ধে যে আওয়ামী লীগ ট্যাগিং করা হয়েছে, আমি সেই ট্যাগিং ছিঁড়েছি।
গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, দেশে জ্বালানি ও গ্যাসের সংকট রয়েছে। সরকার বিকল্প পন্থায় এ সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে কোনো ধরনের গ্যাসকূপ খনন বা গ্যাস অনুসন্ধান করা হয়নি। বাজারের সিন্ডিকেট সরকারকে নানাভাবে অসহযোগিতা করছে। গ্যাসের এই সমস্যার সমাধান হলে সরকার গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ করবে। বিএনপি সরকারকে দুটি অপশক্তি মোকাবিলা করে দেশ পরিচালনা করতে হচ্ছে। একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত শক্তি সরকারকে ব্যর্থ করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এ সময় কালীগঞ্জ থানার ওসি জুলফিকার আলী, কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তবিবুর রহমান মিনিসহ বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।