লাল বলের ক্রিকেটে এখনই বয়সের চেয়ে বড় কোনো দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয় ১৫ বছর বয়সী উদীয়মান ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীকে—এমনটাই মনে করেন ক্রিকেট কিংবদন্তি শচিন টেন্ডুলকার। দুলীপ ট্রফি ও রঞ্জি ট্রফিতে বিহার দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করলেও সূর্যবংশীকে নেতৃত্ব কিংবা বড় কোনো ভূমিকায় ঠেলে না দিয়ে লাল বলের খেলায় আরও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ভারতের সাবেক এই অধিনায়ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটের একটি প্রশ্নোত্তরে অংশ নিয়ে তরুণ এই প্রতিভার নেতৃত্বের বিষয়ে নিজের মত প্রকাশ করেন। সেখানে ১৫ বছর বয়সে সূর্যবংশীর ওপর নেতৃত্বের ভার দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শচিন বলেন, “আমার মনে হয় দুলীপ ট্রফির মতো টুর্নামেন্টে এখনই তাকে সহ-অধিনায়ক করাটা বড্ড তাড়াহুড়ো হয়ে যায়। তাকে লাল বলে আরও ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে হবে এবং ধীরে ধীরে এগোতে দিতে হবে।”
সাম্প্রতিক নিউজিল্যান্ড সিরিজে এই তরুণকে সুযোগ না দেওয়া নিয়ে ভারতের কোচিং স্টাফদের সমালোচনা হলেও, শচিন মনে করেন এই বয়সে সূর্যবংশীকে আন্তর্জাতিক বা বড় পর্যায়ের ক্রিকেটে বাড়তি চাপে না ফেলাই ভালো। উল্লেখ্য, শচীন টেন্ডুলকার নিজেও মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৯৮৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক করেছিলেন। নিজের সেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার জায়গা থেকেই সূর্যবংশীকে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন এই ক্রিকেট আইকন।
মেটাস্পোর্টস ইন্টারেক্টিভে স্ট্র্যাটেজিক বিনিয়োগকারী শচীন
মোবাইল-ফার্স্ট স্পোর্টস গেমিং প্রতিষ্ঠান 'মেটাস্পোর্টস ইন্টারেক্টিভ'-এ কৌশলগত বিনিয়োগকারী (স্ট্র্যাটেজিক ইনভেস্টর) হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ভারত তথা বিশ্ব ক্রিকেটের মহানায়ক শচিন টেন্ডুলকার। প্রতিষ্ঠানটি জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেয়ার ক্রিকেট গেম 'হিটউইকেট' পরিচালনা করে। শচীনের এই যুক্ত হওয়ার ফলে আগামী তিন বছরে গেমটির ডাউনলোড ১০০ মিলিয়নের ঘর ছুঁতে পারবে বলে আশা ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২০ সালে যাত্রার পর থেকে ১২০টিরও বেশি দেশে হিটউইকেটের সক্রিয় খেলোয়াড় সংখ্যা ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ছাড়িয়ে গেছে। গত ৬ মাসে কোম্পানিটির রাজস্ব শতভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গেমটিতে ব্যবহারকারীরা দৈনিক গড়ে ৫১ মিনিট সময় ব্যয় করছেন।
হিটউইকেটের গেমপ্লেতে ক্রিকেটীয় কৌশলের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিই শচীন টেন্ডুলকারকে মেটাস্পোর্টসে বিনিয়োগ করতে আকৃষ্ট করেছে। চুক্তির অংশ হিসেবে ব্র্যান্ড প্রচার, ইন-গেম এক্সপেরিয়েন্স ও কন্টেন্টে শচীনের উপস্থিতি থাকবে।
এই বিষয়ে শচিন টেন্ডুলকার বলেন, “ক্রিকেট সবসময়ই বোলারের চিন্তাভাবনা পড়া, ফিল্ডিং বোঝা এবং প্রতিটি বলের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার খেলা। কেবল রিফ্লেক্স নয়, একজন ক্রিকেটার মাঠে কীভাবে চিন্তা করে—হিটউইকেট সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াটি দারুণভাবে তুলে ধরেছে। গেমটি খেলে আমি উপভোগ করেছি এবং তাদের প্রজেক্টের ওপর আমার আস্থা তৈরি হয়েছে, যা এই যুক্ত হওয়াকে সহজ করেছে।”
মেটাস্পোর্টস ইন্টারেক্টিভের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও কাশ্যপ রেড্ডি জানান, মাঠের কৌশলগত সিদ্ধান্তকে মুখ্য করে হিটউইকেট গেমিং জগতে নিজেদের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছে।