সূর্যবংশীকে ছাড়া খেলতে নেমে শোচনীয় হার ভারতের, গম্ভীরের মুন্ডুপাত

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে একাদশ নির্বাচন নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিন ম্যাচে সিরিজ জয় আগেই নিশ্চিত হওয়ায় অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে অনুষ্ঠিত শুক্রবারের ম্যাচটি ছিল কেবলই আনুষ্ঠানিকতার। কিন্তু এমন এক ম্যাচেও দারুণ ফর্মে থাকা প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীকে একাদশের বাইরে রাখায় ক্রিকেটপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছেন ভারতীয় প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর।

সিরিজের আগের ম্যাচে ওয়েলিংটনে মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন এই তরুণ। তবে ইনজুরি কাটিয়ে ইশান কিশান দলে ফিরতেই বৈভবকে একাদশের বাইরে পাঠায় দলীয় ব্যবস্থাপনা। যেখানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে আগেই পকেটে পুরেছিল ভারত, সেখানে নতুন ও পারফর্ম করা তরুণদের সুযোগ না দিয়ে পুরানো সংমিশ্রণে ফেরার সিদ্ধান্তটি সহজভাবে নিতে পারছেন না ক্রিকেট সমর্থকরা।

ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২৬০ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের টপ অর্ডার মাত্র ৫৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায়। জয় দূরে থাকা, ২০০ রানও করতে পারেনি ভারত। ৯ উইকেট ১৭২ রানেই আটকে গেলে, ৮৭ রানে হেরে যেতে হয়।  

বৈভবকে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়ার ঝড় উঠেছে। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ডোডা গণেশ সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, “সিরিজের ভাগ্য আগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। যেকোনো একজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে বিশ্রাম দিয়ে বৈভব সূর্যবংশীকে খেলানো যেত। তাকে বাদ দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই বোধগম্য নয়।”

প্রধান কোচ গম্ভীরের কঠোর সমালোচনা করে অন্য ভারত ভক্তরাও একে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘পছন্দের খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়ার প্রবণতা’ বলে অভিহিত করেন। ক্রিকেটপ্রেমীদের মতে, দেশের প্রতিনিধিত্বকারী দলে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কোনো স্থান নেই; পারফর্ম করা তরুণদের যথাযথ সুযোগ দিয়েই ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তোলা উচিত।

ফিলিপসের রুদ্ররূপ: ৪৬ বলে সেঞ্চুরি

সাধারণত কিছুটা সময় নিয়ে ইনিংস শুরু করলেও এদিন ইডেন পার্কের ছোট বাউন্ডারি আর প্রথম ব্যাটিংয়ের পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিজের কৌশল খোলস ছেড়ে বের হন গ্লেন ফিলিপস। প্রারম্ভিক পাওয়ার-প্লে পার হতেই রুদ্ররূপ ধারণ করেন এই কিউই ব্যাটার।

মাত্র ৩১ বলে ফিফটি করার পরবর্তী ১০ বলে তুলে নেন আরও ৪০ রান! ভারতীয় পেসার নীতিশ কুমার রেড্ডির করা এক ওভারেই পরপর চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে ৩২ রান আদায় করেন তিনি। দীর্ঘ ছয় হাঁকিয়ে যখন সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন, বল তখনও আকাশে ভাসছিল—কিন্তু তার আগেই বাতাসে হাত উঁচিয়ে উদযাপনে মেতে ওঠেন ফিলিপস। তার ১০৭ রানের ইনিংসটিই নিউজিল্যান্ডকে এই মাঠের ইতিহাসে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে সর্বোচ্চ রান (২৫৯) এনে দেয়।

দলীয় ১১২ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে আসেন মাইকেল ব্রেসওয়েল। কিন্তু ভারতীয় বোলারদের সব হিসাব-নিকাশ গোলমেলে করে দেন তিনি। মাত্র ২৫ বলে ১০টি বাউন্ডারিসহ ৬৫ রানের অপরাজিত ক্যামিও খেলেন তিনি। ফিলিপস ও ব্রেসওয়েলের ৪১ বলের জুটিতে আসে অবিশ্বাস্য ১১৫ রান, যার ওপর ভর করে নিউজিল্যান্ডের রান ২৫০ পার হয়।

স্কোরবোর্ডের চাপ ও ভারতের ইনিংসে ধস

২৬০ রানের সুবিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চরম মানসিক চাপের মুখে পড়ে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ। আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়ে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা।

অভিষেক শর্মা ও শ্রেয়াস আইয়ার রানের গতি সচল রাখতে গিয়ে শট মিস করে সাজঘরে ফেরেন। শ্রেয়াস আইয়ার (২২) পাওয়ার-প্লে ব্যবহার করতে গিয়ে অ্যাডাম মিলনের বলে বোল্ড হন। মিডল অর্ডারে তিলক বর্মা সর্বোচ্চ ৩৫ রান করলেও তা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে।

ভারতের ব্যাটিং অর্ডার ভেঙে ফেলার পেছনে আসল ভূমিকা পালন করেন পেসার জ্যাকব ডাফি। প্রথম বলেই সঞ্জু স্যামসন চার মারার পরপরই নিজের কৌশল বদলে খাটো দৈর্ঘ্যের (বাউন্সার) বোলিং শুরু করেন ডাফি। আর তাতেই ফাঁদে পড়ে উইকেট দেন স্যামসন।

গতির বৈচিত্র্য ও তীক্ষ্ণ বাউন্সারে ভারতীয় ব্যাটারদের কোনোরূপ সুযোগ না দিয়ে ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন ডাফি। তাকে উপযুক্ত সঙ্গ দেন স্যান্টনার (২/২৪) ও ম্যাট ফিশার (২/৪০)।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

নিউজিল্যান্ড: ২৫৯/৭ (২০ ওভার) (ফিলিপস ১০৭, ব্রেসওয়েল ৬৫; মায়াঙ্ক ৩/৪৮)

ভারত: ১৭২/৯ (২০ ওভার) (তিলক ৩৫, শ্রেয়াস ২২; ডাফি ৪/২৩, স্যান্টনার ২/২৪, ফিশার ২/৪০)

ফলাফল: নিউজিল্যান্ড ৮৭ রানে জয়ী।

 
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত