গল্প

অন্য ঘরের মেয়ে

কার্তিক মাস। ঝিম ধরা মধ্যদুপুর। বিশাল চৌধুরীবাড়ি। লম্বা উঠানের ওপাশে রান্নাঘর। রেশমা চুলার পাশে বসে আছে। উনুনের আগুন নিভে গিয়ে ধোঁয়া হচ্ছে। ধোঁয়ায় রেশমার চোখ জ্বলছে। ভাতের হাঁড়িতে বলক উঠেছে। জ্বাল দেওয়া দরকার। রেশমা উবু হয়ে ফুকনি দিয়ে চুলায় আগুন জ্বালানোর জন্য ফুঁ দিচ্ছে।

আমি দাঁড়িয়ে আছি রান্নাঘরের দরজায়। আমার নিশ্বাস ভারী হয়ে এসেছে। এই ভরদুপুরে আশপাশে কেউ নেই। উঠান পেরিয়ে ঘর। রান্নাঘর থেকে চিৎকার দিলে সেই ডাক ঘরে গিয়ে পৌঁছায় না।

ব্লাউজের ওপরে রেশমার পিঠ খোলা। ঘামে ব্লাউজ ভিজে গেছে। খোলা পিঠে বিন্দু বিন্দু ঘাম। হীরের মতো জ্বলজ্বল করছে। সেই ঘামের বিন্দুর ভেতর দিয়ে শরীরের সৌন্দর্য ফিনিক দিয়ে উঠেছে।

বাইরে তাকালাম। কেউ নেই এপাশে। পুকুরের পানিতে রোদ ঝিকমিক করছে। রান্নাঘরের টিনের চাল তেতে উঠেছে। রোদে তেতে ওঠা গরম টিনের আলাদা গন্ধ আছে। সেই গন্ধ, পোড়াকাঠ আর ভাতের মাড়ের গন্ধ পুরো রান্নাঘর জুড়ে নিষিদ্ধ উত্তেজক অবস্থা তৈরি করেছে।

আওয়াজ না করে রান্নাঘরে ঢুকে পড়লাম। রেশমা চুপচাপ ভাতের হাঁড়ির দিকে তাকিয়ে আছে। ভাত হয়ে এসেছে। এখন চুলার ওপর কাত করে ভাতের মাড় ঝরাবে।

রান্নাঘরের দরজা বন্ধ করে দেব নাকি আলতো করে ভেজিয়ে রাখব সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। রেশমার খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। ধান কাটার পর মাঠে পড়ে থাকা শুকনো নাড়ার মতো রেশমার গায়ের গন্ধ। আমার ভীষণ পরিচিত। এই গন্ধের আকর্ষণে কতদিন তার কাছাকাছি ঘেঁষেছি। তার পিঠজুড়ে পড়ে থাকা ঘনকালো কোঁকড়াচুলে কদমফুলের গন্ধ।

শুকনো নাড়ার গন্ধ পাচ্ছি। আমার শরীরের ভেতর অস্থিরতা শুরু হয়েছে। পেছন থেকে আচমকা রেশমার হাত চেপে ধরলাম। অমনি সে চমকে বসা অবস্থায় ঘুরে গেল। আমার দিকে ভয় আর বিস্ময় মেশানো চোখে তাকিয়ে আছে। ঢোক গিলে বলল, ‘ছোটবাবু, হাত ছাড়েন।’

রেশমা হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করল। তার হাত আরও শক্ত করে চেপে ধরলাম। রেশমা সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়েছে। চুলার ধোঁয়ায় তার চোখ লাল দেখাচ্ছে, নাকি অন্য কারণে, বুঝতে পারলাম না।

রেশমা কাতর গলায় বলল, ‘ছোটবাবু, ছাড়েন।’

গলার আওয়াজে জোর নেই। রান্নাঘরের বাইরে দুপুরের রোদ স্থির হয়ে আছে। ভাতের হাঁড়িতে মাড় উপচে আগুনের ওপর পড়েছে। ধোঁয়া বুগবুগ করে ঘন হয়ে গেল। রেশমাকে হেঁচকা টানে পুরোপুরি আমার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছি।

রেশমা ভেঙে পড়া গলায় বলল, ‘ছোটবাবু, এমন করছেন কেন!’

উত্তর দিলাম না। কেন জানি তার চোখের দিকে তাকাতে পারছি না। রেশমা আমার বুকের ভেতর। রান্নাঘরকে খুব ছোট মনে হচ্ছে। আমার ঘরের বিছানার সমান। নিভে যাওয়া চুলায় আগুন জ্বলে উঠেছে। আগুনের আঁচে ভাত পুড়ে যাচ্ছে। পোড়াভাতের গন্ধ মাড়িয়ে কদমফুলের গন্ধ নাকে এসেছে। শুকনো নাড়ার গন্ধ পাচ্ছি। রেশমা জোর আপত্তি করছে। নিজেকে ছাড়াতে চাইছে। সে নিজেকে ছাড়াতে পারল না। তার ওপর আমার সবটুকু ইচ্ছে চাপিয়ে দিলাম।

এরপরও রেশমাকে কাছে টেনেছি। সেজন্য তাকে ভয় দেখাতে হয়েছে আর সামান্য কিছু গিফট। টাকা-পয়সা টাইপ। প্রতিবারই রেশমা আপত্তি করেছে। কেঁদেছে, ছেড়ে দিতে বলেছে। আমি শুনিনি। বরং তার সমর্পিত হতে না চাওয়ার ইচ্ছে আমার ভেতর বুনো উত্তেজনা তৈরি করেছে। চৌধুরীবাড়ির ছেলে আমি। কারও আপত্তি আমার কাছে অতিতুচ্ছ।

ঘটনা আগে থেকেই জানতাম। রেশমাকে পেতে এই ঘটনা আমাকে অধিক সাহসী করে তুলেছে। বাবা নিয়মিত রেশমার ঘরে যান। রেশমার শরীরের পরিবর্তন আগে বাবার নজরে এসেছে। তিনি কোনো কৈফিয়ত চাননি। প্রশ্ন করেননি। শান্ত থেকেছেন। চৌধুরীবাড়ির সম্মানের হিসেব মিলিয়েছেন নিজের মতো করে। 

নকুড় ভাইকে বাবা ডাকলেন। নকুড় ভাই বয়সে আমার থেকে বড়। বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে তাকে চৌধুরীবাড়িতে দেখছি। বাবার ফুটফরমাশ খাটে। বাড়ি কোথায় জানি না। তারও খুব স্পষ্ট মনে নেই। নকুড় ভাই বাবার সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। সকাল থেকে বাবার মুখ অতিরিক্ত গম্ভীর। বুঝতে পারছি ঘটনা কিছু ঘটেছে। ঘটনা কী ঘটেছে সেটা বুঝতে পারছি না। বাবা কিছু বলছেন না। চুপ করে আছেন। বাবার সামনে দাঁড়িয়ে নকুড় ভাই পায়ের বুড়ো আঙুল দিয়ে মাটি খুঁটছে।

অনেকক্ষণ বাদে বাবা কথা বললেন, ‘পায়ের আঙুল খোঁচা বন্ধ কর।’

নকুড় ভাই পায়ের বুড়ো আঙুল দিয়ে মাটি খোঁটা বন্ধ করল। বাবা বললেন, ‘রেশমার শরীর ভালো না। সে তার আত্মীয় বাড়ি যেতে চায়। তুই তাকে রেখে আসবি। সঙ্গে আর কাউকে নিবি না। ঘরে এসে যাতায়াত খরচ নিয়ে যা।’

নকুড় ভাই বাবার ঘরে যাওয়ার পর বাবা তাকে আর কী বলেছেন জানি না।

রেশমাকে নিয়ে নকুড় ভাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। উঠানের একপাশে দাঁড়িয়ে আছি। ভেবেছিলাম যাওয়ার আগে রেশমা আমার দিকে তাকাবে। কিছু বলবে। রেশমা আমার দিকে তাকাল না। বাড়ির বাইরে গিয়ে মাথা ঘুরিয়ে বাড়ির দিকে তাকাল। তার অনেক দিনের চেনা জায়গা। 

বাইরের দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়েছি। রেশমা আমার দিকে তাকাল। সে তাকিয়েছে সোজাসুজি আমার চোখের দিকে। অস্বস্তি লাগছে। রেশমার দৃষ্টিতে কিছু আছে। অভিযোগ, ঘৃণা, নাকি এমন কোনো প্রশ্ন, যার উত্তর আমার জানা আছে। তবে ভাবতেও পারছি না। 

চোখ সরিয়ে ফেলতে চাইলাম। রেশমার দৃষ্টি থেকে চোখ সরাতে পারলাম না। নকুড় ভাই খুব স্বাভাবিকভাবে রেশমাকে নিয়ে বড় রাস্তার দিকে হাঁটতে থাকল।

চৌধুরীবাড়ির সদর দরজা পেরিয়ে রেশমা চলে গেল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চৌধুরীবাড়িতে সবকিছু আগের মতোই চলতে থাকল। বাবা নিয়মিত বৈঠকখানায় বসছেন। কামলারা কাজ করছে। চৌধুরীবাড়িতে যেন কোনো ঘটনাই ঘটেনি।

মায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু হলো। পুলিশ রিপোর্টে লেখা হলো আত্মহত্যা। বাবা টাকা-পয়সা দিয়ে নকুড় ভাইকে বিদায় দিয়ে দিলেন। বললেন, ‘অনেকদিন খাটুনি করেছিস। বয়স হচ্ছে। তোর বিশ্রাম দরকার। বহুদূরে চলে যাবি। যেখানে তোকে কেউ চেনে না। শান্তিতে বেঁচে থাকবি।’

ফিসফাস শুনলাম, ‘নকুড়কে দিয়ে চৌধুরী তার বউকে খুন করিয়েছে।’

কিন্তু কেন, ফিসফাস কথায় তার ব্যাখ্যা পাওয়া গেল না। আমার পড়াশোনা শেষ হয়েছে। চাকরি শুরু করে বিয়ে করলাম। এখন শহরে থিতু হয়েছি।

২.
শীতের সকাল। ছুটির দিন। আয়েশ করে পেপার পড়ছি। আচমকা খবরের কাগজের এক জায়গায় চোখ আটকে গেল। রেশমার ঝলমলে ছবি। সঙ্গে নিউজ—শহরের ব্রোথেলে একজন যৌনকর্মী সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে খুন করেছে। নকুড় ভাইয়ের থাকার জায়গা খুঁজে বের করলাম। আমাদের গ্রাম থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। নকুড় ভাইকে দেখে চেনা যাচ্ছে না। শরীরে হাড়ের সঙ্গে চামড়া লেগে আছে। দুই চোখ গর্তে বসে গেছে। পুরো শরীর কালো কুচকুচে। তার ক্যানসার হয়েছে। কেমো নিতে পারেনি। ডাক্তার বলেছেন, বাঁচার আশা নেই।

আমাকে দেখেই নকুড় ভাই চিনতে পেরেছে। বলল, ‘মরার আগে একবার চৌধুরী সাহেবের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে ছিল। তার পাপের দায় তো সব আমাকেই নিতে হয়েছে!’

নকুড় ভাই হাঁপাচ্ছে। তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করলাম, ‘রেশমাকে কোথায় রেখে এসেছিলে?’

নকুড় ভাই স্থির গলায় বলল, ‘বেশ্যাবাড়ি।’

আমার গলা দিয়ে কেমন যেন ধমকের মতো আওয়াজ বের হয়ে এলো, ‘কেন?’

নকুড় ভাই বলল, ‘মরণ আমার শিথানে দাঁড়িয়ে আছে। যাওয়ার আগে সত্যটা বলে যাই। রেশমাকে ভালোবাসতাম। তার ভালোবাসাও আমি পেয়েছি। এক সময় দেখলাম সে আর আমার একার নেই। বারোজনে তাকে লুটে খাচ্ছে। পালিয়ে যেতে বলেছিলাম। সে রাজি হয়নি। রাগের মাথায় ভুল করেছি। চৌধুরী সাহেব তাকে নিকেশ করে দিতে বলেছিলেন। আমি তার শাস্তি বিধান করেছিলাম বেশ্যাবাড়ি। 

অস্থির হয়ে বললাম, ‘কিন্তু তার তো কোনো দোষ ছিল না।’

নকুড় ভাই বলল, ‘ভুল আমরা সবাই করেছি। আমি ভুল করেছি। তুমি ভুল করেছ। চৌধুরী সাহেব ভুল করেছেন। তিনি রেশমাকে শেষ করে দিতে বললেন। তাতে তার কোনো অনুশোচনা ছিল না। চৌধুরীবাড়ির সমস্যা কীভাবে সরিয়ে ফেলতে হয়, তা তিনি জানেন।’

আমার কিছু বলার ছিল না। নকুড় ভাইয়ের কাছ থেকে চলে এলাম।

৩.
জেলখানায় গেছি রেশমার সঙ্গে দেখা করতে। দেখা করা সহজ হলো না। প্রচুর ফর্মালিটি। যখন দেখা হলো তখন সাংবাদিকরা ঘিরে ধরেছে। রেশমার সঙ্গে আমার সম্পর্ক কী? কত দিন ধরে তাকে চিনি!

পরদিন প্রচণ্ড চিৎকার চেঁচামেচি করে মিতিন বাসা ছেড়ে চলে গেল। মিতিন আমার স্ত্রী। খবরের কাগজে রেশমা আর আমার ছবি ছাপা হয়েছে। তার সঙ্গে বানানো নানান কাহিনি। পেপার পড়ে মিতিন জেরা শুরু করল। তারপর লাগেজ গুছিয়ে চলে যাওয়ার সময় বলল, ‘ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দেব।’

মিতিন চলে যাওয়ার পর বাসা থেকে বের হইনি। পরের সপ্তাহে রেশমার সঙ্গে জেলখানায় দেখা করতে গেলাম। এবার দেখা করা সহজ হয়েছে। তবে মার্ডার কেসের আসামি বলে জেলে অধিক সতর্কতা ছিল। সাক্ষাতের ঘরে রেশমা এসে আমার সামনে বসল। মাঝখানে টেবিল। রেশমা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। নরম গলায় বললাম, ‘তোমার মামলা আমি দেখছি। একজন নামকরা ল’ ইয়ারের সঙ্গে কথা হয়েছে।’ রেশমা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ‘আমার ফাঁসি হয়ে যাবে, ছোটবাবু। খুন আমি করেছি।’

আশ্বাস দেওয়া গলায় বললাম, ‘ল’ ইয়ার যদি প্রমাণ করে দেন যে তুমি আত্মরক্ষার জন্য খুনটা করেছ, তাহলে তোমার জামিন হয়ে যাবে।’

গাঢ় গলায় রেশমা বলল, ‘জামিন হলে আমি কোথায় যাব?’

এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা। বললাম, ‘তোমার থাকার ব্যবস্থা আমি করব।’

আমাকে খানিক বিব্রত করে রেশমা জিজ্ঞেস করল, ‘কেন করবেন?’

প্রশ্ন শুনে থমকে গেলাম। নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম, ‘তোমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে।’

রেশমা আমার চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে আছে। তার চোখের পাতা পড়ছে না। আমার অস্বস্তি বাড়ছে। রেশমা কঠিন গলায় বলল, ‘আমার সঙ্গে অন্যায় কে করেনি, ছোটবাবু?’

সে কথার উত্তর দিতে পারলাম না। শুধু বললাম, ‘তোমার জন্য কিছু করতে চাই।’

কারারক্ষী সময় শেষ হওয়ার কথা জানাল। উঠে দাঁড়ানোর আগে বললাম, ‘আবার আসব।’

রেশমা কিছু বলল না।

আদালতে ল’ ইয়ার প্রমাণ করে দিলেন খদ্দের রেশমাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছিল। তাকে নিবৃত না করলে সে রেশমাকে মেরে ফেলত। রেশমা তাৎক্ষণিক বিপদের মুখে নিরুপায় হয়ে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছে। তা ছাড়া ঘটনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। রেশমাকে আঘাতের ধরন, ঘরের পরিস্থিতি আর সাক্ষীদের বক্তব্য মিলিয়ে আত্মরক্ষার যুক্তি দাঁড় করানো সহজ হলো। আদালতের রায়ে রেশমা খালাস পেয়েছে।

জেল থেকে বেরুনোর পর রেশমাকে বললাম, ‘চলো, তোমার থাকার ব্যবস্থা করেছি।’

শীতল গলায় রেশমা বলল, ‘আমার জন্য আপনি অনেক করেছেন। আমার জীবনটাই ফিরিয়ে দিলেন। এবার আমি আমার মতো করে বাঁচতে চাই।’

জানতে চাইলাম, ‘কোথায় যাবে?’

রেশমা বলল, ‘ঠিক করিনি।’

বললাম, ‘আগে তাহলে ঠিক করো। তোমার যা দরকার, আমি ব্যবস্থা করে দেব।’

রেশমা শান্ত গলায় বলল, ‘আমার সবকিছুর ব্যবস্থা আপনাকেই কেন করতে হবে?’

এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। অনেকগুলো প্রশ্ন মনের ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে। আমি কি রেশমার ওপর অত্যাচারের প্রায়শ্চিত্ত করতে চাইছি! ঘনদুপুরে রান্নাঘরে উবু হয়ে রেশমা চুলায় ফুঁ দিচ্ছে। পেছন থেকে তার হাত মুচড়ে ধরলাম। রেশমা ঘুরে আতঙ্কিত চোখে বলল, ‘ছোটবাবু, হাত ছাড়েন।’

তার হাত ছাড়লাম না। অত্যাচারের সেই শুরু। নাকি বাবার অপমানের দায় শোধ করতে চাইছি! বাবা হাঁটাচলা করতে পারেন না। অথর্ব হয়ে গেছেন। নকুড় ভাই মারা গেছে।

হাঁটতে হাঁটতে রেশমা এগিয়ে গেছে। বললাম, ‘এখন কোথায় যাচ্ছ সেটা বলো।’

রেশমা বলল, ‘এতদিন আপনারা যা বলেছেন, তাই মেনে নিয়েছি। এবার নিজের সিদ্ধান্তে নিজের মতো করে বাঁচতে চাই।’

আমাকে রেখে রেশমা চলে গেল।

কদমফুলের গন্ধ পাচ্ছি। রেশমার চুলের গন্ধ। তাতে রোদে তেতে ওঠা টিনের চালের গন্ধ। মাথার ভেতর রেশমার গায়ের গন্ধ ঢুকে পড়েছে। ধান কাটার পর মাঠে পড়ে থাকা শুকনো নাড়ার মতো গন্ধ। দম বন্ধ হয়ে আসছে। চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে এসেছে। কোনো শব্দ শুনতে পাচ্ছি না। ধীরে ধীরে আমার আশপাশ পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে এলো। নিকষকালো ঘোর অন্ধকার।