সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা

সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যমান ক্ষমতা, গণভোট এবং জরুরি অবস্থাসংক্রান্ত বিধান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সভাপতিত্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক বলে জানিয়ে এ বিষয়ে অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি।

বৈঠকে সংবিধানে শিক্ষা ও চিকিৎসাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা, জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা, গণঅভ্যুত্থানের দাবি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, জুলাই সনদের টেকসই বাস্তবায়ন, নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করেন কমিটির সদস্য ও ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা। বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। এ সময় ঐতিহাসিকভাবে যুগে যুগে তরুণরাই জাতিকে পথ দেখিয়েছে উল্লেখ করে তরুণদের কল্যাণে,  সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জাতির জন্য একটি জনবান্ধব ও যুগোপযোগী সংবিধান প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে আরও উল্লেখ করা হয়, জুলাই সনদের ৬(ক) তে উল্লিখিত ‘সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে সংস্কার’- বিষয়টির সাথে সকল দল একমত পোষণ করে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলেও বিরোধী দল বর্তমান সময়ে ইচ্ছাকৃতভাবে এ বিষয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। কমিটি জানায় জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকার আন্তরিক। তরুণরা  জুলাই সনদের বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকারের উপর আস্থা রেখে বৈঠকে সহমত পোষণ করে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন অংশ নেন। 

আমন্ত্রিত ছাত্রনেতাদের মধ্যে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাছির, ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বি, সদস্য হেমা চাকমা, ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি তামজিদ হায়দার, ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি সৈকত আরিফ, ফারহানা মানিক মুনা, জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু, ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান ফরিদ, এনপিত্রের মুখপাত্র নাজিফা জান্নাত, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ করে সভা বর্জন করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের অধিকাংশ, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ইসলামি ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা। জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক, ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ইউনিয়ন, ডাকসু ও জাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কসহ মোট ৬২ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বৈঠকে। তাদের মধ্যে ৩১ জন উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির বিরোধিতা করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংবিধান পরির্তনের কথা বলছে। তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করছে। কমিটিতেও প্রতিনিধি দেয়নি। অপরদিকে শিক্ষাবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে কমিটি। সেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছাড়াও সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ এগিয়ে যাবে বলেছেন কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ। কমিটির দায়িত্ব হলো-রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, শিক্ষক, জুলাই যোদ্ধা ও অন্য অংশীজনদের মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সুপারিশ তৈরি করা।