সাত পিস্তলের ভিডিও নিয়ে যা জানাল পুলিশ

চট্টগ্রামের রাউজানে দুই ব্যক্তির বিরোধের জেরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক পিস্তলের ভিডিও। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওতে মোট সাতটি পিস্তল দেখা গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র হলেও কয়েকটি খেলনা পিস্তল। পরিকল্পিতভাবে ভিডিওটি ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বিরোধে জড়ানো দুই ব্যক্তি হলেন হৃদয়-হোসেন শাওন ওরফে বুলেট এবং আরাফাত মামুন। একসময় তারা একসঙ্গে রাউজানে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তবে সম্প্রতি তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। পুলিশের দাবি, মামুনই ফেসবুকে অস্ত্রের ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে ‘মামুন চেয়ারম্যানের সমর্থক গোষ্ঠী’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি আপলোড করা হয়। ক্যাপশনে অস্ত্রগুলোকে ‘বাদশার ছেলে হৃদয়ের’ বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে হুমকি দিয়ে বলতে শোনা যায়, ‘খেলা দেখেছ কোথায়? প্রস্তুত থাক। নোয়াপাড়ায় তোদের অস্তিত্বসহ শেষ করে দেব। তোদের জন্য এনেছি, টাকা দিয়ে এনেছি, মরণের টিকিট। সময় থাকতে ভালো হয়ে যা। চাঁদাবাজি বন্ধ কর।’

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, দুজনের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে থানায় মামলা রয়েছে। তারা দুজনই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে জামিনে মুক্তি পান। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর কিছুদিন একসঙ্গে থাকলেও প্রায় এক মাস আগে হৃদয়ের বাবা বাদশাকে মারধর করেন মামুন। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। বাদশাও হত্যা মামলার আসামি। গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকার পর বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘মামুন চেয়ারম্যান’ নামে পরিচিত আরাফাত মামুন কোনো নির্বাচিত চেয়ারম্যান নন। তিনি রাউজানের ১৪ নম্বর বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ফেসবুকে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। হৃদয় ও মামুনের বাড়ি একই ইউনিয়নে।

পুলিশ আরও জানায়, হৃদয়ের বাবা বাদশার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে মামুন তাকে মারধর করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হৃদয় মামুনের দল ছেড়ে দেন। পুলিশের ধারণা, হৃদয়ের কাছে থাকা পুরোনো অস্ত্রের ভিডিওটি মামুনের কাছে ছিল। সাম্প্রতিক বিরোধের জেরে সেটিই ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে একটি মামলায় হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তখন তার মোবাইল ফোনে এই ভিডিওটি পাওয়া যায়। পরে সেটি মুছে দেওয়া হয়েছিল। ওই মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর গত জুলাইয়ে আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত সেপ্টেম্বরে তিনি আবার জামিনে মুক্তি পান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের পর হৃদয় আসল ও খেলনা মিলিয়ে কয়েকটি পিস্তল নিয়ে ভিডিও ধারণ করে মোবাইল ফোনে সংরক্ষণ করেছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন, অস্ত্রগুলো তার নিজের নয়; অন্য ব্যক্তিদের অস্ত্রের ভিডিও ধারণ করে রেখেছিলেন। এসব ভিডিও দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করতেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য ছিল। পরে নোয়াপাড়া এলাকা থেকে দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, সাম্প্রতিক বিরোধের জেরেই মামুন এখন হৃদয়ের সেই পুরোনো অস্ত্রের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।