ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টিতে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। এ ছাড়া ২৮টি ওয়ার্ডকে মাঝারি এবং ১৮টিকে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ-২০২৬-এর ফলাফলে এ চিত্র উঠে এসেছে।
বুধবার রাজধানীর নগর ভবন মিলনায়তনে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে ডিএসসিসি। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে সংস্থাটির নিজস্ব উদ্যোগে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপের ফল প্রকাশ করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ সিটির ৫৭টি ওয়ার্ডে মশার ঘনত্ব নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এতে এসব এলাকায় ডেঙ্গু সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়েছে। বিশেষ করে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি বিবেচনায় ২৯টি ওয়ার্ডকে উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে।
ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, শুধু সরকারি কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। বাড়ি ও কর্মস্থল পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত এক দিন জমে থাকা পরিষ্কার পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নগরবাসীর সহযোগিতা, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগে ডেঙ্গুমুক্ত, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব।
২ হাজার ২৫০ বাড়িতে জরিপ
ডিএসসিসির ৩৬ জন মাঠকর্মী গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত এ জরিপের তথ্য সংগ্রহ করেন। জরিপের বিস্তারিত তুলে ধরে সংস্থাটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান জানান, সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ড থেকে প্রতিটিতে ৩০টি করে বাড়ি নির্বাচন করা হয়। এভাবে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ৪০৩টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা শনাক্ত হয়েছে।
তিনি জানান, শনাক্ত হওয়া লার্ভার মধ্যে ৩১ দশমিক ৬ শতাংশ পাওয়া গেছে বহুতল ভবনে। একক বাড়িতে পাওয়া গেছে ৩১ দশমিক ৩৭ শতাংশ, সেমি-পাকা বাড়িতে ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং নির্মাণাধীন ভবনে ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এ ছাড়া খালি প্লটেও এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
জরিপে এডিস মশার প্রজননস্থল সম্পর্কেও তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ লার্ভা পাওয়া গেছে মেঝেতে জমে থাকা পানিতে। অন্যদিকে বালতিতে সংরক্ষিত পানিতে পাওয়া গেছে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ লার্ভা।
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় জমে থাকা পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের অন্যতম উৎস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।